• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘তোলাবাজি’ নিয়ে দুই বিধায়কের বিতণ্ডা

Extortion
প্রতীকী ছবি
ফের সরগরম দুই বিধায়কের ‘তোলাবাজি’ নিয়ে কাজিয়া। গত এক সপ্তাহ ধরে এই কাজিয়া চলছে শমসেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম ও ফরাক্কার কংগ্রেস বিধায়ক মইনুল হকের মধ্যে। ধানঘড়ায় মাইক বাজিয়ে তৃণমূল বিধায়কের নাম করে একদল  লোক টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ তুলে মইনুল আক্রমণ করেছিলেন আমিরুলকে। পাল্টা আমিরুলও গলা চড়িয়ে ‘তোলাবাজদের সর্দার’ বলে আক্রমণ করেছিলেন মইনুল হককে। 
 
ক্ষুব্ধ মইনুল কড়া ভাষায় আমিরুলের অভিযোগের উত্তর দিয়ে পাল্টা একটি ভিডিয়ো প্রকাশ হতেই এলাকা সরগরম হয়ে উঠেছে। আর সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ তীব্র 
আকার নিয়েছে। দুই বিধায়কই অবশ্য একে অপরের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। এমনকি কলকাতায় কে ক’টা ফ্ল্যাট করেছেন, তা নিয়ে কটাক্ষের বন্যা শুরু হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। 
 
এদিন মইনুল বলেছেন, “কে তোলাবাজ তা ফরাক্কা ও শমসেরগঞ্জের মানুষ ভাল করে জানেন। ওই তৃণমূল  বিধায়ক সম্পর্কে এমন কোনও লোক নেই যে জানে না। কিভাবে জার্সি বদল করে এমএলএ হয়েছেন, তা সকলে জানেন। তিনি এক সময় ব্লক কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। তখন যার কাছে মোটর সাইকেলের তেল কেনার পয়সা ছিল না, ভোটে জেতার পর তিন মাসের মধ্যে তিন খানা গাড়ি? লটারি পেয়েছেন নাকি?’’ তৃণমূল সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
 
তবে মইনুল বলেন, ‘‘লোকের কাছে শুনেছি পাকুড় থেকে যত গাড়ি আসে তা থেকে টাকা তোলা হয়। গঙ্গার ধার থেকে আড়াই তিন বছর ধরে দিন রাত হাজার হাজার ট্রাক্টর বোঝাই মাটি কেটে তা বিক্রি করা হয়েছে। ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনি। কেউ যদি প্রতিবাদ করেছে পুলিশ দিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ভাবে কোটি  টাকা কামিয়েছেন ওই বিধায়ক।”
 
মইনুল বলেন, “আমি বহু বছর বিভিন্ন পঞ্চায়েত, এমনকি ধুলিয়ান পুরসভা পর্যন্ত চালিয়েছি। তারা এখন অনেকেই আমাদের দলে নেই। তৃণমূলে গিয়েছেন। ধুলিয়ানের কাউন্সিলাররাও আমাদের দলে নেই। কিন্তু কেউ বলতে পারবে মইনুল হক তাদের কাছ থেকে একটি টাকাও নিয়েছে? অথচ ওই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।’’ মইনুল বলেন, ‘‘আমি ওর দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম। আমার সঙ্গে সে কোথায় বসবে? কলকাতা, ধুলিয়ান যেখানে খুশি বসুন।’’
 
এদিন তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলামকেও মইনুলের এই ভিডিওতে তোলা অভিযোগ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।  আমিরুল বলেন,  ‘‘আমি তোলাবাজ? প্রমাণ করতে পারবেন তো? আমিও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি।’’
 
সামনে বিধানসভা নির্বাচন।  তার আগে দুই বিধায়কের তোলা পরস্পরের  বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রীতিমতো জমিয়ে দিয়েছে শমসেরগঞ্জ, ফরাক্কার 
রাজনীতির অঙ্গনকে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন