জল চেয়ে বিচারকের কাছ থেকে ধমক খেতে হল বহরমপুরে তিন মহিলা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত নিত্যানন্দ দাসকে। মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে ওই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালিন নিত্যানন্দ আচমকা বিচারকের কাছে ‘জল খাব’ বলে জানান। সে কথা শুনে বিচারক পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় ‘জল দিতে হবে। বসার জায়গা দিতে হবে’ বলে বিরক্ত প্রকাশ করেন। পরে অবশ্য বিচারকের নির্দেশে তাঁর দিকে পানীয় জলের বোতল এগিয়ে দেন এক পুলিশ কর্মী।

পরে নিত্যানন্দ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারককে জানান, তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে তাঁর কাছে। ‘তাঁর মক্কেল অসুস্থ’ বলে জানান অভিযুক্ত আইনজীবী তপনকুমার জানা। তার প্রতিবাদ জানিয়ে এজলাসে দাঁড়িয়ে সরকারি আইনজীবী দেবাশিস রায় বলেন, ‘‘আপনি এবং আপনার মক্কেল দু’জনেই আদালতের কাজে বাধা দিচ্ছেন।’’ তা নিয়ে সরকারি আইনজীবী এবং অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবীর মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়ে যায়। বিচারক তখন দু’জনকেই থামিয়ে দেন। তার পরে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

বহরমপুরের একটি আবাসনে একই পরিবারের তিন মহিলা খুনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ‘জ্যোতিষী’ নিত্যানন্দ দাসকে ঘটনার বেশ কিছু দিন পরে বহরমপুর থানার পুলিশ শিলিগুড়ির একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। ২০১৪ সালের ৪ জানুয়ারি ওই খুনের ঘটনার দু’দিন পরে কাদাই এলাকার ওই আবাসনের নিচের তলার ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে পুলিশ বৃদ্ধা প্রভাদেবী, মাঝবয়সী বিজয়া বসু এবং কিশোরী আত্রেয়ীর দেহ উদ্ধার করে। এ দিন ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার সুব্রত ভট্টাচার্যের
সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল।

সাক্ষ্যগ্রহণের শুরুতেই সরকারি আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তরে তদন্তকারী অফিসার জানান, ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি মৃতদের মোবাইল উদ্ধার হয়। তার পরে মোবাইল দুটি’র আইএমই নম্বরহ জানার জন্য বহরমপুরের একটি বেসরকারি মোবাইলের দোকানে ওই দুটি নম্বরের সত্যতা যাচাইয়ের পরে তার রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার কথাও জানান ওই পুলিশ অফিসার। এছাড়াও নিত্যানন্দের মানিব্যাগের ভেতর থেকে বিজয়া বসুর মোবাইলের সিম উদ্ধারের কথাও বলেন
তদন্তকারী অফিসার।

এর পরে সরকারি আইনজীবীর প্রশ্ন, ওই সিম যে নিহতের তার কী প্রমান আছে? পুলিশ অফিসার জানান, ওই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদালতে জমা দেওয়া আছে। পকেট থেকে ঘুমের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে  পরীক্ষার জন্য রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল দফতরে পাঠান হয়। সেই রিপোর্টও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ দিন পুলিশ অফিসার বলেন, ‘‘জেলের মধ্যে টিআই প্যারেড করানো হলে দু’জন তাঁকে শনাক্ত করেন। সেই রিপোর্টও আদালতে জমা দিয়েছি।’’ এর পরেই আদালতের শুনানি মুলতুবি হয়ে যায়।