• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হোম কোয়রান্টিনে লাখ

লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত

Corona
প্রতীকী ছবি

মুর্শিদাবাদে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিনই জেলা জুড়ে করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলছে। শুক্রবার রাতেও মুর্শিদাবাদে ৫ জন করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের চার জন ফরাক্কার ও একজন লালগোলার। শনিবার সকালে তাঁদের বাড়ি থেকে এনে বহরমপুরে মাতৃসদন করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই চার জনের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদের তালিকা তৈরি করে হোম কোয়রান্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। শুক্রবার রাতের পাঁচ জন নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল ৩৯জন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, একজনের কলকাতায় কো-মর্বিডিটির কারণে মৃত্যু হয়েছে, এক জন কলতাকায় চিকিৎসাধীন এবং ২৯ জন করোনা আক্রান্ত বহরমপুরে মাতৃসদন করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‘শুক্রবার রাতেই ফরাক্কা ও লালগোলার ওই পাঁচ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। বিষয়টি জানার পরে শনিবার তাঁদের হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে।’’

তৃতীয় দফার লকডাউনের শেষের দিক থেকে মুর্শিদাবাদে ভিন রাজ্য ফেরত মানুষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। লকডাউনের তৃতীয় দফার শেষ দিক পর্যন্ত জেলায় যেখানে ভিন রাজ্য ফেরত মানুষের সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার আশপাশে। সেখানে তৃতীয় দফার শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ হাজার ৪৩৪ জন ভিন রাজ্য থেকে লোকজন মুর্শিদাবাদে ফিরেছেন। ভিন জেলা থেকে ফিরেছেন প্রায় ১৮ হাজার ৭৪৩মানুষ। এই মুহুর্তে ভিন জেলা ও ভিন রাজ্য ফেরত প্রায় এক লক্ষ মানুষকে ১৪ দিনের হোম কোয়রান্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর ফরাক্কার ৪ জন ১৮ মে মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ফিরেছেন। পরের দিন স্বাস্থ্য দফতর তাদের লালারস সংগ্রহ করেছিল। শুক্রবার রাতেই তাঁদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। অন্যদিকে গত ১৮মে রাতে লালগোলার বিরামপুরের এক যুবক গ্রামের অন্য পাঁচ জনের সঙ্গে চেন্নাই থেকে ফিরেছেন। তাঁরা চেন্নাই থেকে প্রথমে কলকাতা আসেন। পরে সেখান থেকে একটি ছোট গাড়ি করে গ্রামে ফিরেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের লালারস নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের করোনা পজ়িটিভ হয়েছে।

এক সময় অন্য জেলাগুলিতে করোনার প্রভাব থাকলেও মুর্শিদাবাদে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য ছিল। মাস দেড়েক আগে সালারের ক্যানসার আক্রান্ত এক বৃদ্ধের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে তাঁকে কলকাতায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন পরে কো-মর্বিডিটির কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। সালারের বৃদ্ধের পরে মাস খানেক জেলায় করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া যায়নি। এর পরেই দিন পনেরো আগে সুতি-২ ব্লক ও রঘুনাথগঞ্জের চারজনের করোনা পজ়িটিভ হয়। এর পরে একে একে খড়গ্রাম ডোমকল, লালবাগ, নবগ্রাম, ভগবানগোলা ২ ব্লক, বেলডাঙা ২ ব্লকে করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সব থেকে বেশি আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায় বৃহস্পতিবার রাতে। সেদিন জেলা জুড়ে ১৪ জন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়। তার মধ্যে নবগ্রাম ব্লকেরই আট জন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়। শুক্রবার বিকেলে ডোমকলের দু’জনের এবং শুক্রবার রাতে ফরাক্কার চার জন ও লালগোলার এক জন করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়। লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কপালে চওড়া চিন্তার ভাঁজ পড়েছে জেলা প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘দেশের ভিতরে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, তামিলনাড়ু ও দিল্লিতে করোনার প্রভাব বেশি। মুর্শিদাবাদে আক্রান্তদের একটা বড় অংশ ওই সব রাজ্য ফেরত। কলকাতা ফেরত ৬-৭ জন আক্রান্ত হয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন