• সুদীপ ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ছোট বাজেটের ছোট দুর্গারই বরাত করোনার আকালে

Durga idol
চাহিদা মেনে তৈরি হচ্ছে ছোট দুর্গার মূর্তি। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণীতে। নিজস্ব চিত্র

এই বছর কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দেবী দুর্গা ‘রাজরাজেশ্বরী’র উচ্চতা অন্য বছরের চেয়ে দেড় ফুট মতো ছোট হচ্ছে। সিঁদুর খেলাও বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সৌজন্যে করোনা সংক্রমণ। 

 
কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির তরফে অমৃতা রায় এ দিন বলেন, ‘‘প্রথা মেনে রাজরাজেশ্বরী বেহারাদের কাঁধে চেপে বিসর্জনে যান। অতিমারি পরিস্থিতিতে পুজোয় পারস্পরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখতে এবং গায়ে গায়ে লেগে থাকা বেহারার সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যেই এবছর এমন ভাবনা ভাবতে হচ্ছে।’’ 
 
আশ্বিন মাসে এসে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, এবার দুর্গাপুজো আদৌ হবে কিনা, সে নিয়ে সংশয়ে ছিলেন সকলেই। প্রতি বছরের মতো এই বছর তাই কয়েক মাস আগে পালবাড়িতে বিগ্রহের যে বায়না করা হয়, তা-ও করেননি বেশির ভাগ পুজো উদ্যোক্তারা। এখন টুকটাক বায়না আসছে পালবাড়িতে। তবে আগের মতো বড়-বড় বিগ্রহ তৈরির বরাত আসছে না বলেই জানাচ্ছেন প্রতিমাশিল্পীরা। বরং ছোট করে বিগ্রহ নিয়ে নিয়মরক্ষার পুজো সারতে চাইছেন অনেকেই।
 
যেমন ঘূর্ণীর মৃৎশিল্পী জয়ন্ত পাল। তিনি এই বছর ২ থেকে ৩.৫ ফুটের মধ্যে ফাইবার গ্লাসের তৈরি ১৫টি ছোট দুর্গা প্রতিমার বরাত পেয়েছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে। এর মধ্যে একটি মূর্তি মেক্সিকোয় পাড়িও দিয়েছে। এ দিন জয়ন্ত বলেন, ‘‘গত বছর ১২ ফুটের উপরে ২২টা বিগ্রহের বরাত ছিল। এ বছর সে রকম দুর্গাপ্রতিমা হয়েছে মাত্র দুটো। সাত ফুটের উচ্চতার গোটা পাঁচেক প্রতিমার বরাত হয়েছে সম্প্রতি।’’ 
 
পুজোর এখনও কিছু দিন বাকি। এর মধ্যে আরও কিছু ছোট প্রতিমার বরাত হতে পারে বলে আশা মৃৎশিল্পী জয়ন্তের। 
একই অবস্থা ঘূর্ণীর শঙ্কর পালেরও। বড় দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে এলাকায়। গত বছর শিল্পী যেমন ২৭টি বড় প্রতিমা নির্মাণ করেছিলেন। এই বছর তেমন প্রতিমার বরাত এসেছে মাত্র চারটি। তবে এই বছর করোনার মধ্যেও সাত ফুটের মধ্যে গোটা সাতেক প্রতিমার বরাত পেয়েছেন তিনি। আর একটি ফাইবারের ছোট প্রতিমা অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী তড়িৎ পালেরও একটি ছোট দুর্গা বিগ্রহ যাচ্ছে জার্মানি। শিল্পী জানালেন, ‘‘ক্রেতাদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বড় প্রতিমার দাম দেওয়া সমস্যার নয়। তবে এই কঠিন সময়ে সেই প্রতিমা নিয়ে যাওয়া বা বড় মাপের মণ্ডপ করে তার পুজোর আয়োজনের ঝামেলা এড়াতে চাইছেন বেশির ভাগ ক্রেতাই।’’ সে কারণেই ছোট ঠাকুরের চাহিদা এই বছর বেড়েছে বলে মত প্রতিমাশিল্পীদের। 
 
কৃষ্ণনগরের নতুনবাজার পাল পাড়ার ছবিটাও একই রকম। বাঁধা খরিদ্দারের কথা ভেবে প্রতি বছরের মতোই বরাতের আগেই ৩০টি বড় দুর্গা প্রতিমা বানিয়েছিলেন গৌতম পাল। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র তিনটির বরাত পেয়েছেন তিনি। 
আবার, রাজীব পাল সাত থেকে থেকে নয় ফুটের মতো কয়েকটা ছোট ঠাকুরের বরাত পেয়েছেন এই বছর। তিনি বলেন, ‘‘এ বছর কলকাতার ক্রেতারা কেউ প্রতিমার জন্য আসেননি।’’
 

কল্যাণী থেকে করিমপুর প্রায় সর্বত্রই চোখে পড়ছে মণ্ডপ ও প্রতিমা ছোট হওয়ার ছবি। নবদ্বীপের পোড়ামা তলার বহু পুরনো পুজোয় দেবীর উচ্চতা কমেছে ২ ফুট। নবদ্বীপের আজাদ হিন্দ ক্লাবের ২৬ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রতিমা এ বছর ১৪ ফুটে নেমে এসেছে। ক্লাবের সদস্য শুভাশিস কংসবণিক বলেন, ‘‘অতিমারি পরিস্থিতির জন্য আমাদের এই সিদ্ধান্ত। খরচ কমিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টায় জোর দিয়েছি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন