কখনও জলে ভাসে ফসল, কখনও আবার থাবা বসায় খরা। চাষিদের দুঃখ-কষ্টের বারোমাস্যা চলতেই থাকে। অথচ এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দিতে ফসল বিমা যোজনার সংস্থান রয়েছে। অথচ চাষিদের একটা বড় অংশ ফসল বিমা যোজনা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকেন। এ বারেও খরিফ মরসুমে জেলার প্রায় ৬৬ শতাংশ কৃষক বাংলা ফসল বিমা যোজনার আওতার বাইরে থেকে গিয়েছেন। ৬ লক্ষ কৃষক পরিবারের মধ্যে সাকুল্যে ২ লক্ষ ১ হাজার কৃষক পরিবার ফসলের বিমা করেছেন। 

এ বছর বৃষ্টির ঘাটতির কারণে ধান চাষিরা সমস্যায় পড়েছিলেন। আবার গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার ১৪টি ব্লকের ২৯ হাজার হেক্টর ফসলের জমি জলে ভাসছে। জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও গত কয়েক দিন নাগাড়ে  বৃষ্টির কারণে জেলার একাংশ জলে ভাসছে।

জঙ্গিপুর মহকুমার ৭টি ব্লক, কান্দির ভরতপুর ১, খড়গ্রাম ও বড়ঞা, ডোমকল মহকুমার জলঙ্গি ও রানিনগর ২ ব্লক এবং লালবাগ মহকুমার নবগ্রাম ও ভগবানগোলা ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমি জলের তলায় রয়েছে। ওই সব এলাকায় ধান ছাড়াও কলাই ও আনাজে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের সহায়তা দিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রকল্প ছিল প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা। দুই সরকারের সহায়তায় নিখরচায় কৃষকদের এই বিমা করে দেওয়া হত। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন কেন্দ্র নয়, শুধুমাত্র রাজ্য সরকার বিমার প্রিমিয়ামের সব টাকা দেবে। ফলে গত রবি মরসুম থেকে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের সব খরচ বহন করছে। ৩১ অগস্টের মধ্যে যে সব কৃষক আমন ধান চাষের জন্য মরসুমী ঋণ নিয়েছেন, ঋণ মঞ্জুর হয়েছে বা ঋণ পুনর্নবীকরণ হয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে বিমা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সরাসরি হয়ে গিয়েছে। যে সব কৃষক ঋণ ছাড়া চাষ করছেন তাঁদের একটা অংশ স্বেচ্ছায় আবেদন করেছেন।

নিখরচায় হলেও কৃষকরা বিমা করছেন না কেন?  জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শাহনাজ বেগম বলছেন, ‘‘বাংলা ফসল বিমার বিষয়ে কৃষকদের সচেতনতায় ঘাটতি থেকে গিয়েছে। কৃষকদের এ বিষয়ে আরও বেশি সচেতন করে বিমার আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছি।’’