• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুড়ে ছাই, বিপর্যস্ত বিএসএনএল

Fire Fighter
আগুন নেভাতে ব্যস্ত দমকলকর্মী: বুধবার বহরমপুরে। ছবি: গৌতম প্রামাণিক।

Advertisement

বহরমপুরে বিএসএনএল’র সুইচ ঘরে আগুন লেগে কার্যত দিনভর স্তব্ধ হয়ে পড়ল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

তার জেরে জেলা জুড়ে বিএসএনএলের ল্যান্ডলাইন, ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিষেবা শুধু ব্যহতই হল না, ব্যাঙ্কের লিঙ্ক না থাকায় দুর্ভোগ পোহালেন বিস্তৃত এলাকার গ্রাহকেরা।

তবে বিকেলের দিকে বিএসএনএল’র বেঙ্গল সার্কেলের মোবাইল পরিষেবা কিছুটা সচল হয়। তবে, যে সব ব্যাঙ্কে অন্য সংস্থার নেট রয়েছে সেখানে লিঙ্ক-সমস্যা ছিল না। কিন্তু সকাল থেকেই সেখানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
 বিএসএনএলের ডিস্ট্রিক্ট টেলিকম  ম্যানেজার রঘুবংশ বাবু এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে থাকায়, সংস্থার তরফে জানা যায়নি প্রায় কিছুই। তবে, বিএসএনএল’র এক আধিকারিক বলেন, ‘‘কত কি ক্ষতি হয়েছে তা এখনই আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। সুইচ রুম থেকে ল্যান্ড ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া হয়। সেখানেই আগুন লেগেছিল। পরিষেবা স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।”

আর এই অসুবিধার জন্য ব্যাঙ্কে এসে সামান্য ক’টা টাকার জন্য যেমন হা পিত্যেশ করতে হল বহু মানুষকে, তেমনই ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে থমকে থাকল নানান প্রশাসনিক কাজও।

বুধবার বহরমপুরের খাগড়ার চা কুঠি গলির বছর সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধা ডলি ঘোষ একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কের খাগড়া শাখায় টাকা তুলতে এসেছিলেন। লিঙ্ক না থাকায় এ দিন টাকাই তুলতে পারেননি তিনি। বৃদ্ধা বলছেন, ‘‘একাই থাকি। উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাস পেট ব্যাথা— নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়। এখন অসুস্থ হয়ে পড়লে কে দেখবে বল তো বাবা!’’ লালগোলার জসোইতলা একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কে এসেছিলেন টুটুল শেখ। টুটুল বলছেন, “ ভাই কলকাতায় পড়াশুনা করে। ওকে টাকা পাঠানোর জন্য এসেছিলাম। কিন্তু লিঙ্ক না থাকায় পাঠাতে পারলাম না টাকা।’’ একই ভাবে ভুগলেন ডোমকল কান্দি, ভগবানগোলার মানুষও।

মুর্শিদাবাদের লিড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার অমিত সিংহ জানাচ্ছেন, “ইউবিআই এর রিজিওনাল অফিস-সহ মোট ৬১টি শাখায় বিএসএনএল’র লাইন আছে। সব কটি শাখায় এদিন সমস্যা হয়েছে। তবে ভি স্যাটের মাধ্যমে কিছু কিছু শাখায় পরিষেবা দেওয়া গিয়েছে।’’

বিএসএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে মঙ্গলবার গভীর রাতে বিএসএনএলের বহরমপুর এক্সচেঞ্জের তিনতলায় সুইচ রুমে আগুন লাগে। প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। দমকলের দুটি ইঞ্জিন রাতভর চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমসিম খায়।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন