সমাজ থেকে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য রাজ্যের পরিবেশ দফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে বলে দাবি করেছিলেন রাজ্যের পরিবহন ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ বার ওই প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার রুখতে উদ্যোগী হয়েছে কান্দি পুরসভা। 

এর আগেও কান্দি পুরসভা এলাকায় ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে পুর-কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত নজরদারি ও ক্যারিব্যাগ বিক্রি ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করায় পুরসভার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ। ফলে গত আট বছর ধরে বিভিন্ন ভাবে  প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করার করলেও তা সফল হয়নি।

শেষ পর্যন্ত রাজ্য পরিবেশ দফতরের সহযোগিতায় চটের ব্যাগ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধন্ত নিয়েছে কান্দি পুর-কর্তৃপক্ষ। পুর-কর্তৃপক্ষের দাবি, চটের ব্যবহার চালু হলেই ওই প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হবে।  পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে,  গত আট বছর ধরে কান্দি পুরসভা এলাকায় দফায় দফায় ওই প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য প্রথমে সচেতনতামূলক প্রচার, মাইকে প্রচার, লিফলেট্ বিলি করে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আতে কোনও কাজ না হওয়ায় পরে পুরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পুরকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাজারে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লাগাতার অভিযান চালানোর সঙ্গে জরিমানাও চালু করে পুর-কর্তৃপক্ষ।

তার জেরে কিছু দিন বন্ধ থাকলেও একে বারে ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করা যায়নি। এর পরে ফের শহরের বাজারে বাজারে, মোড়ের মাথায়, বসতি এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে সমাজে কী ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সেই বিষয়ে হোর্ডিং-ব্যানার টাঙিয়ে সচেতন বৃদ্ধির করার চেষ্টা হয়েছিল।  কিন্তু কমানো যায়নি ক্যারিব্যাগের ব্যবহার। পরে ক্রেতা বা বিক্রেতার হাতে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ দেখতে পেলেই জরিমানার পথেও হাঁটতে হয় পুরসভাকে। কিন্তু পুরসভার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।  এবার রাজ্যের পরিবেশ দফতর থেকে চটের ব্যাগ সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পুরসভার পক্ষ থেকেও ওই ব্যাগকে সামনে রেখেই কান্দি শহরকে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ মুক্ত করতে পারবে বলে দাবি পুর-কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি কান্দিতে জেলা পরিবেশ মেলার এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণেই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।” তার পরেই তিনি বলেন, “রাজ্যের মধ্যে কাটোয়া ও কাঁথির মত কয়েকটি পুরসভাকে প্লাস্টিক মুক্ত পুরসভা বলে ঘোষনা করা হয়েছে। পুরসভার মাধ্যমে চটের ব্যাগ সরবরাহ করছে পরিবেশ দফতর। আমি চাই কান্দি পুরসভাতেও ওই চটের ব্যাগ চালু করে প্লাস্টিকের দূষণ বন্ধ করতে উদ্যোগ নিক কান্দি পুরসভা।”

মন্ত্রীর ওই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কান্দির সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সকলেই। কান্দি মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তারকনাথ প্রামানিক বলেন, “আমরা ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বহুবার শহরে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের বন্ধ করার দাবি জানিয়েছি। নিজেরাও ওই ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান করেছি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের বন্ধ করতে চাইলেও ক্রেতারা ওই ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করতে পারছেন না। এবার পুরসভা উদ্যোগ নিয়ে চটের ব্যাগ বাজারে ছাড়লে কান্দিতে প্লাস্টিক মুক্ত শহর তৈরি করা যাবে।”

কান্দি পুরসভার পুরপ্রধান তথা কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, “আমরা পুরসভার পক্ষ থেকে রাজ্যের পরিবেশ দফতরে ১৫হাজার চটের ব্যাগের বরাত দিয়েছি। ব্যাগগুলি পাওয়া গেলেই প্রথমে শহরের মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীদের ওই ব্যাগ দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে ওই ব্যাগ সমস্ত বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করার হবে। কোনও ভাবেই শহরে প্লাস্টিকের দূষণ মেনে নেওয়া যাবে না।”