ভোট দিয়ে রাত কাটল আতঙ্কে
পেশায় দিনমজুর ওই ব্যক্তিই শুধু নন, চাকদহ ব্লকের হিংনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হিংনাড়া কলোনিতে অনেক বাড়ির সদস্যই বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন ভোটের পর।
Voting

প্রতীকী ছবি।

রাতে দু’চোখের পাতা এক করেননি। আতঙ্কে। ঘুম হবেই বা কী করে! যে কোনও মুহূর্তে হামলা হতে পারে, এই আশঙ্কাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

পেশায় দিনমজুর ওই ব্যক্তিই শুধু নন, চাকদহ ব্লকের হিংনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হিংনাড়া কলোনিতে অনেক বাড়ির সদস্যই বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন ভোটের পর। তাঁদের ‘অপরাধ’, বারণ করা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সোমবার ভোট দিয়েছেন। এ জন্য তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ ওই বাসিন্দাদের।

এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য আমাদের বলা হয়েছিল। ওদের কথা না শুনে ভোট দেওয়ার পর থেকেই আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখানো হয়েছে। রাতে আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তাই আমরা জেগে রাত কাটিয়েছি।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। ওই দিন কয়েকজন এসে এলাকার মানুষকে শাসিয়ে গিয়েছিল। বলা হয়েছিল, তাঁরা কেউ যেন বুথমুখো না হন। নির্দেশ না মানা হলে খুন করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সোমবার দুপুর ১টা পার হয়ে গেলেও ভয়ে এলাকার ওই বাসিন্দারা ভোট দিতে যেতে পারেননি। শেষমেশ এলাকার বিজেপি নেতারা তাঁদের বুথে নিয়ে গিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।

হিংনাড়া অঞ্চল বিজেপি সভাপতি আশিস বিশ্বাস বলেন, ‘‘ভোট দেওয়ার পর ওদের আবার ভয় দেখানো হয়। সে জন্য রাত জেগে ছিল এলাকার মানুষ। আমরা তাঁদের পাশে ছিলাম।” অভিযোগ অস্বীকার করে চাকদহ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা শ্রীকান্ত রায় বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা অভিযোগ তুলে এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করতে চাইছে বিজেপি। আমাদের দলের কেউ কাউকে ভোট দিতে বাধা দেয়নি। ভোট দিতে যাওয়ার জন্য ভয় দেখায়নি।’’ উল্টে তাঁর অভিযোগ, সোমবার সারা দিন বিজেপির বাইক বাহিনী এলাকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এতে  তাঁরা আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন। সেই কারণে তৃণমূলের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দেন বলে তাঁর দাবি।

চাকদহের বিডিও পুষ্পেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভয় দেখানোর বিষয়ে কিছু জানা নেই। কেউ কোনও অভিযোগ জানাননি। ভোট দেওয়া নিয়ে কারও কোনও সমস্যার কথাও কেউ জানাননি। খোঁজ নিয়ে দেখব।”