ভোটদানেও এগিয়ে মহিলারা
ভোটদানেও পুরুষদের থেকে এগিয়ে থাকলেন মুর্শিদাবাদের মহিলারা। মঙ্গলবার জেলার জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি দক্ষিণ মালদহের ফরাক্কা শমসেরগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় নির্বাচন হয়েছে
1

মঙ্গলবারের ভোটে জেলার বিভিন্ন বুথে দেখা গেল মহিলাদের বাঁধভাঙা উৎসাহ। নিজস্ব চিত্র। গ্রাফিক: জিয়া হক

ভোটদানেও পুরুষদের থেকে এগিয়ে থাকলেন মুর্শিদাবাদের মহিলারা। মঙ্গলবার জেলার জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি দক্ষিণ মালদহের ফরাক্কা শমসেরগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় নির্বাচন হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পুরুষদের তুলনায় ১.৯৬ শতাংশ বেশি মহিলা ভোট দিয়েছেন। জঙ্গিপুরে ৭.৫৫ শতাংশ ও মুর্শিদাবাদে ৫.৬৬ শতাংশ মহিলা বেশি ভোট দিয়েছেন।
জেলাশাসক পি উলাগানাথন বলেন, ‘‘প্রথম প্রচার শুরু হয়েছিল মহিলাদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য। এর পরে মহিলারা যাতে ভোটদানে এগিয়ে আসেন সে বিষয়ে নানা ভাবে সচেতন করা হয়।সে সবেরই ফল এটা।’’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুষ মহিলার আনুপাতিক হার বৃদ্ধির জন্য রাজ্যের সেরা পুরস্কার পেয়েছে মুর্শিদাবাদ। মাস দু’য়েক আগেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছে। সেখানেও ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। 
পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটার পিছিয়ে থাকার বিষয়টি মাস ছয়েক আগে নজরে এসেছিল প্রশাসনের। তার পর থেকেই নানা পরিকল্পনা নেয় মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ‘গুটিপিসি’র নামে চারটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়। স্কুল-কলেজ, হাটে-বাজারে, গ্রামে-গঞ্জে সেই ভিডিয়ো দেখানো হয়। স্কুল কলেজে শিবির করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে  সচেতনও করা হয়। যার ফলে রাজ্যের গড়কে ছাপিয়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদ। এ বারে রাজ্যে যেখানে পুরুষ-মহিলা ভোটারের গড় আনুপাতিক হার ৯৪৯, সেখানে মুর্শিদাবাদ জেলার গড় আনুপাতিক হার হয়েছে ৯৫৮।
বিশিষ্ট কবিয়াল দুলালি চিত্রকর বলছেন, ‘‘এক সময় সমাজ ব্যবস্থার কারণে মহিলাদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হত। কিন্তু এখন সেই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে মহিলারা ঘর ছেড়ে বেরোচ্ছেন। বাবা-মায়েরা মেয়েদের শিক্ষা ও স্বাধীনতা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছেন। যার ফলে এটা সম্ভব হয়েছে।’’
বহমপুরের চুঁয়াপুর বিদ্যানিকেতন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিল্পী সেন বলেন, ‘‘মহিলারা সচেতন হয়েছেন। ভোটদানে এগিয়ে আসছেন। এটা ভাল দিক।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘জেলার অনেক পুরুষ ভিন রাজ্যে কাজে চলে যান। ভোটের দিন তাঁদের অনেকেই আসতে পারেন না। মহিলারা ভোটদানে এগিয়ে যাওয়ার এটিও একটি কারণ।’’