• বিদ্যুৎ মৈত্র
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুরভোটে মুখ বাছতে দল যাচ্ছে ঘেমে!

1
ফাইল চিত্র।

বহরমপুরে তৃণমূলের পুর-মুখ কে? জেলা নেতারা সমস্বরে বলছেন, ‘‘দি দি!’’

তবু একটা মুখের বড় প্রয়োজন  বহরমপুর পুরসভায়। যাঁকে সামনে রেখে পুরসভায় পিছিয়ে থাকা লড়াইটা নতুন করে শুরু করতে চাইছে দল। আর সেই ‘প্রোজেক্টেটেড পুরপ্রধানের’ নাম সুপারিশ করতে গিয়ে ‘ঘেমে নেয়ে’ এক সা হয়ে উঠছেন নেতারা।

জেলা তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলছেন, ‘‘সমস্য়াটা তো ওখানেই, যাকে সামনে আনব তার বাবমূর্তিটা তো সাদা কাগজের মতো হতে হবে। আবার এমন কাউকে আনতে হবে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আবার শুধু গ্রহণযোগ্য হলেই হবে না, কাজের মানুষও হতে হবে তাঁকে— এতগুলো মান ঠিকঠাক রেখে কাউকে বাছতে গিয়ে একেবারে ঘেমে নেয়ে এক সা অবস্থা!’’

যাঁর হাত ধরে কংগ্রেসের দখল করা পুরবোর্ড তৃণমূলে পা বাড়িয়েছিল সেই নীলরতন আঢ্যের সঙ্গে দু’বছর ধরে দল প্রায় যোগাযোগ রাখছে না। সে অভিমান পুষে নীলরতনও দলের ভাল-মন্দের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন। তিনি যে লড়াই করবেন তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তবে কোন দলের হয়ে, কোন প্রতীকে, তা খোলসা করেননি। তা হলে? 

অভিজ্ঞ নীলরতন যদি শেষতক দল ছেড়ে দেন, তা হলে কে হবেন বাবী পুরপ্রধান তা নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে কৌতুহল রয়েছে। তবে নীলরতন আঢ্যের প্রতি যে দলের কোনও আগ্রহ নেই তা বুঝিয়ে দিতে কসুর করছেন না কর্মী থেকে জেলার তাবর নেতারাও। জেলা তৃণমুলের সভাপতি আবু তাহের খানের কথাতেই তা স্পষ্ট, “ওটা আমার কাছে কোন সাবজেক্টই নয়!”
বহরমপুর পুরসভা ধরে রাখা যে তৃণমূলের কাছে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ তা বিলক্ষণ জানেন দলের কর্মী থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তৃণমূল জেলা দফতরে সেই হিসাব মেনে নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণও শুরু হয়েছে।  ইতিমধ্যে শহরের অনেক তরুণ প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডেটা জমা দিয়েছেন। সেই সব উল্টেপাল্টে দেখার দায়িত্ব পড়েছে সুব্রত সাহা, নিয়ামত সেখ, আবুতাহের খান ও মইনুল হাসানের। চার সদস্যের সেই কমিটির চুলচেরা হিসেব এবং কর্মীদের একাংশের গু়্জনে বেশ কয়েকটি নাম উঠে আসছে। সেই তালিকায় পরিচিত নাম দলের মুখপাত্র অশোক দাস। সাংস্কৃতিক শহর বহরমপুরে সংস্কৃতি মনস্ক অশোকের গ্রহণযোগ্যতা অন্য অনেক তৃণমূল নেতার চেয়ে বেশি বলে মনে করছে দলের একাংশ। দল তাঁকে এই প্রথম ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীও করবে বলে জানা গিয়েছে। শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় এ বার প্রার্তী হচ্ছেন না বলেই শোনা যাচ্ছে। তা হলে কি অশোক দাস? 

অশোক নিজে বলছেন, ‘‘অধীর চৌধুরীর কংগ্রেসকে ফিনিশ করতে দল যা দায়িত্ব দেবে তাই করব।” ১২ নম্বর ওয়ার্ডেই গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল ভোট পায় মাত্র ৮.৬১ শতাংশ। ১৯৭৭ সাল থেকে এই শহরেই রাজনীতি করছেন অশোক। বহরমপুর শহর থেকে জেলার সর্বত্র যিনি একজন সংগঠক হিসাবেই পরিচিত। সেই অশোক এ বার প্রথম প্রার্থী হচ্ছেন শুনে দলের অনেকেই খুশি। ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মের প্রথম দশ বছর তিনি অবশ্য দলের জেলা সভাপতি পদ সামলে ছিলেন। তাঁর কথায় “এরপর দলের তৎকালীন নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দল ছেড়ে ফিরে গিয়েছিলাম কংগ্রেসে।” পরে ‘মতাদর্শগত’ কারণে কংগ্রেস ছেড়ে ফের তাঁর তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন। তার পর থেকে দলের মুখপাত্র এবং জেলা সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেই অশোক নিজেও প্রার্থী হওয়ার কথা শুনে কিছুটা উত্তেজিত। তবে প্রকাশ্যে, প্রার্থী হওয়ার কথা স্বীকার করেননি তিনি। তা হলে, এখন শুধু অপেক্ষা এবং অপেক্ষা? অশোক হাসছেন, ‘‘দেখুন না ক’টা দিন, অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন!’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন