তিন দিন পর চিকিৎসায় সাড়া দিল মালদহের মানিকচকের গুলিবিদ্ধ তিন বছরের শিশু মৃণাল মণ্ডল। শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত বেশ কয়েকবার তার কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছে বলে দাবি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের। এমনকি, হাত-পাও নাড়ছে সে। তাতেই মনে করা হচ্ছে সে স্বাভাবিক হচ্ছে। যদিও এখনও তার সঙ্কট কাটেনি বলে দাবি চিকিৎসক মহলের।

তবে চিকিৎসায় শিশুটি সাড়া দেওয়ায় ক্ষণিক আশার আলো দেখছেন চিকিৎসকেরা। এ দিন ছেলেকে হাত, পা নাড়তে দেখে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন পঞ্চায়েত সদস্যা পুতুল মণ্ডল সহ পরিবারের লোকেরাও।

নিউরো সার্জেন সুষেণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গত শনিবার ওই শিশুর সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। সেখানে দেখা গিয়েছে মস্তিষ্কে নতুন করে রক্তক্ষরণ হয়নি। তবে মাথার বাঁ দিকে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। অস্ত্রোপচার করে সেই রক্ত বের করা যায়নি। নিজে থেকেই সেই রক্ত শুকিয়ে যায়। চিকিৎসায় শিশুটি সাড়া দিয়েছে ঠিকই।” তবে এখনও তার সঙ্কট কাটেনি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “মস্তিষ্কের চারপাশ ফুলে রয়েছে। আরও ফুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সর্ব ক্ষণের জন্য শিশুটিকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।”

এ দিকে, মৃণালের মাথায় কী করে গুলি লাগল, সে রহস্য এখনও কাটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, এদিন রাতে ফরেন্সিক দলের জেলায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ, সোমবার মানিকচকের রামনগর গ্রামে তদন্তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুতুলদেবীর বাড়িতে পুলিশের পিকেট রয়েছে। পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই ইংরেজবাজার শহরে রয়েছেন। বাড়িতে রয়েছেন মৃণালের দাদু বিনয় এবং দিদা ললিতা মণ্ডল। ছোট নাতির চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন তাঁরা। বিনয়বাবু বলেন, “ঘটনার সময় আমরা পটলের জমিতে ছিলাম। দ্রুত ছুটে গিয়ে দেখে নাতির মাথা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। বাড়িতে কেউ না থাকায় নাতিকে দেখতে যেতে পারছি না।”

পুলিশের এক কর্তা বলেন, “রক্ত মুছে দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন করে যাতে প্রমাণ লোপাট না হয় তার জন্য পুলিশ পিকেট হয়েছে। এ ছাড়া গুলির খোল পাওয়া গিয়েছে। সেভেন এমএম পিস্তলের গুলি রয়েছে।”

গত, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে নাগাদ বাড়ির বারান্দায় খেলার সময় গুলিবিদ্ধ হয় তিন বছরের শিশু মৃণাল মণ্ডল। তার কপালের উপরে গুলি লেগে মাথার খুলি ফাটিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহের এক নার্সিংহোমেভর্তি রয়েছে।

শিশুর বাবা পরিমলবাবু থানায় বিজেপির ১৮ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে গ্রামবাসী এবং বিজেপি নেতৃত্বদের দাবি, বাড়ির মধ্যেই কারও হাতের বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে শিশুর মাথায় লেগেছে। পুলিশেরও একাংশ সেই তত্ত্ব মেনে নিয়েছেন। যদিও পরিমলবাবু বলেন, “ঘটনা অন্য দিকে ঘোরানোর জন্য বিজেপি এমন অভিযোগ করছে।” মালদহের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।” তিনি এলাকায় গিয়ে তদন্ত করে এসেছেন। তৃণমূলের দাবি, পুতুলদেবী বিজেপির টিকিটে দাঁড়িয়ে ভোটে জিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সেই আক্রোশেই তাঁর ছেলেকে গুলি করা হয়েছে।