শনিবার দুপুর। রায়গঞ্জের মহারাজ এলাকায় হঠাৎ দেখা গেল তিরবিদ্ধ হয়ে পড়ে কাতরাচ্ছে একটি কুকুর। খবর পেয়ে পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা গিয়ে কুকুরটির অস্ত্রোপচার করে সেটির শরীর থেকে তির বার করেন। কুকুরটির পিছনের ডান পায়ের উপরে লোহার ফলাযুক্ত বাঁশের তির বিঁধে ছিল। কে বা কারা, কী কারণে ওই কুকুরটিকে লক্ষ্য করে তির ছোড়ে, তা জানা যায়নি। ফের এমন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশুপ্রেমী বাসিন্দারা। এর আগে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ইটাহার থানার তিলনাতেও একটি কুকুরকে তিরবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন ওই পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। সেটির পেটেও একই ধরনের তির বিঁধে ছিল বলে সংগঠন সূত্রে খবর।

ওই সংগঠনের উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক গৌতম তান্তিয়ার অভিযোগ, তিলনার ঘটনার পরে ছ’মাস কেটে গিয়েছে। এখনও পুলিশ দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘‘দু’টি ঘটনাতেই দুষ্কৃতীরা চুরি বা অপকর্ম করতে বাধা পেয়ে কুকুর খুনের চেষ্টা করেছে বলে আমাদের সন্দেহ। পুলিশের নজরদারি থাকলে এটা ঘটত না। সংগঠনের তরফে পুলিশে অভিযোগ করা হবে।’’

জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘এখনও মহারাজা এলাকায় এ রকম কোনও ঘটনার অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জেলার দশটি থানার সমস্ত এলাকাতেই নিয়মিত নজরদারি চালায়। তিলনার কুকুরটিকে তিরবিদ্ধ করার তদন্ত চলছে। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’’

গৌতম জানান, জাল দিয়ে কুকুরটিকে আটক করে ঘুমপাড়ানি ইঞ্জেকশন দিয়ে সেটিকে অচেতন করা হয়। পরে স্থানীয় একটি সরকারি শৌচাগারের বারান্দায় রেখে অস্ত্রোপচার করে সেটির শরীর থেকে তির বার করা হয়। বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বর্তমানে কুকুরটি সেখানেই রয়েছে। সংগঠনের সদস্যরা কুকুরটিকে নিয়মিত স্যালাইন দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছেন।