জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার কর্মবিরতির জেরে রাজ্যের অন্য মেডিক্যাল কলেজের মতো মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিরাপত্তা বাড়ছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও। ইতিমধ্যে, অস্ত্রধারী পুলিশ কর্মী মোতায়নও হয়েছে হাসপাতালে। কিন্তু তাতে আশঙ্কা কাটেনি। হাসপাতাল সূত্রের খবর, বেশ কয়েক দিন আগেই নিরাপত্তা রক্ষী বাড়ানো হয়েছে। বসানো রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও। হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রয়েছে কোলাপসিবল গেট। তারপরেও কখনও চুরি, কেপমারি থেকে শুরু করে ঘটে শিশু চুরির ঘটনাও। আবার কখনও রোগীর আত্মীয়দের হাতে আক্রান্ত হতে হয় কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু নিরাপত্তারক্ষীদেরও। 

রোগীর পরিজনদের হাসপাতাল থেকে কার্ড দেওয়া হয়। যিনি সারাক্ষণ রোগীর সঙ্গে থাকবেন, তাঁর জন্য সবুজ ও যিনি মাঝে মাঝে রোগীর সঙ্গে দেখা করতে আসবেন, তাঁর জন্য হলুদ। চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, রোগীর পরিজনদের সেই কার্ড নিয়েই চিকিৎসক বা নার্সের  সঙ্গে কথা বলতে হবে। এ ছাড়া তাঁদের দাবি, এক জন রোগীর সঙ্গে এক জনই থাকতে পারবেন ওয়ার্ডে। তারপরেও রোগীর আত্মীয়দের ভিড়ে থিকথিক করে ওয়ার্ড। এক ঝলক দেখলে মনে হবে যেন সব সময়ই ওয়ার্ডগুলিতে ভিজিটিং আওয়ার চলছে। নিরাপত্তা নিয়ে গলদ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। 

কোথাও রয়েছে গলদ? হাসপাতালের একাংশ কর্মীর দাবি, “একজন রোগীর সঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্য আসেন। গেটে ঢুকতে বাধা দিলে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে রোগীর আত্মীয়দের বচসা থেকে শুরু করে হাতাহাতিরও হয়। সেই গোলমাল এড়ানোর যায় না কেননা, গেটগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে ঢিলেঢালা।” 

এ ছাড়া, ওয়ার্ডের মধ্যে গোলমালের ঘটনা নিয়ে একাংশ চিকিৎসককেও দুষেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগে সব সময়ের জন্য থাকেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। কিন্তু বেশ কিছু সিনিয়র চিকিৎসক সময় মতো ওয়ার্ডে যান না। ফলে জুনিয়র চিকিৎসকদেরই মুমূর্ষু, আশঙ্কাজনক রোগীদের দেখতে হয়। অনেক সময় সেই রোগীদের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলে দায় চলে আসে কর্তব্যরত জুনিয়র চিকিৎসকদের দিকেই। যার জন্য গোলমাল রুখতে হলে নিরাপত্তা রক্ষী বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও ওয়ার্ডে সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মত কর্তৃপক্ষের একাংশের। 

তাঁদের এও দাবি, নার্স, চিকিৎসকদের দূর্ব্যবহার নিয়েও অনেক সময় অভিযোগ ওঠে। সেই বিষয়েও সকলকে নজর দিতে হবে। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক রয়েছেন। তারপরেও একাংশ চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। খুব শ্রীঘই সকলকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।”

অন্তঃবিভাগ এবং বহির্বিভাগ নিয়ে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ ছাড়াও দুই দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদের একাংশ এবং বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকেও প্রচুর রোগী ভিড় জমান চিকিৎসার জন্য। তাই নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। এখন হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছেন ৫৯ জন। আরও ৫৯ জন নিরাপত্তা রক্ষী নেওয়া হবে। এ ছাড়া পুলিশ ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সেখানে দশ জন অস্ত্রধারী পুলিশ এবং দশ জন সিভিক ভলান্টিয়ার রয়েছেন। হাসপাতাল জুড়ে ৯৬টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার তথা সহ অধ্যক্ষ অমিতকুমার দাঁ বলেন, “জরুরি বিভাগ, প্রধান গেটগুলিতে আমাদের কোলাপসিবল গেট রয়েছে। এছাড়া মেল, ফিমেল ওয়ার্ডেও কোলাপসিবল গেট রয়েছে। প্রতিটি গেটে দু’জন করে রক্ষী রাখা হবে।”