কখনও শেয়ালের আওয়াজ ভেসে আসছে। কখনও শোঁ শোঁ শব্দে বইছে হিম বাতাস। তার মধ্যেই মাঠ জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বড় বড় টর্চের আলো। সংখ্যায় ২০-২৫ জন। রাতভর দল বেঁধে মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রথযাত্রার জন্য এ ভাবেই মাঠ পাহারায় নেমেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের আশঙ্কা, তৃণমূল যে কোনও সময় মাঠের ক্ষতি করে দিতে পারে, আর সে জন্যেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে এই পাহারার ব্যবস্থা। 

বিজেপির কোচবিহার জেলার সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, “গোটা বাংলায় আমাদের সভা বানচাল করার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল সমস্ত আটকে রেখেছে। এ বারে দলের এক কর্মীর জমিতেই সভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই মাঠের ক্ষতি করা হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই রাত পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, বিজেপির কোনও অভিযোগই ঠিক নয়। রাত পাহারার বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলে দাবি করেছে তারা। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “জেলায় বিজেপির কোনও সংগঠন নেই। তাই একটি বুথে সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। অসম থেকে লোক আনা হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অসম থেকে লোক এনে কোনও অশান্তির চেষ্টা হলে বরদাস্ত করা হবে না।” পাশাপাশি তিনি জানান, বিজেপি যে রাস্তা দিয়ে রথ নিয়ে যাবে, পরের দিন ৮ ডিসেম্বর একই পথে পবিত্র যাত্রা করবে তৃণমূল।

আগামী ৭ ডিসেম্বর কোচবিহারে সভা করে রথযাত্রার সূচনা করবেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। ওই যাত্রার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’। ওই সভার মাঠ নিতে প্রায় এক মাস ধরে টানাপড়েন চলছিল। জেলা শহর ও শহরতলিতে পাঁচটি মাঠের জন্য আবেদন করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, কোনও মাঠেই যাতে সভা করা না যায়, তৃণমূল প্রভাব খাটিয়ে সেই ব্যবস্থা করতে চেয়েছে। অবশেষে ঝিনাইডাঙায় দলের কর্মী চিনু কুণ্ডুর ১৬ বিঘা কৃষিজমিতে সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে মাটি ফেলার কাজ চলছে। মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। মাঠের চারপাশে আলোর জন্য বাল্ব ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের আশঙ্কা, সেখানে মাঠ নষ্ট করে দেওয়া হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই রাত পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

গত রাতে পঞ্চাশ জন বিজেপি কর্মী রাত পাহারা দিয়েছেন। যুব নেতা অসীম রায়ের বাড়ি ওই এলাকাতেই। তিনিও রাত পাহারায় রয়েছেন। তিনি জানান, মাঠের মধ্যে ত্রিপল টাঙিয়ে ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি বড় টর্চ কেনা হয়েছে। ক্যাম্পের মধ্যে লেপ, কম্বলের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে রান্নার জন্য গ্যাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একসঙ্গে যাতে অনেক মানুষ খেতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রাতে সবাই সজাগ ছিলাম। পালা করে জেগেছি। টুকটাক শব্দেও টর্চ জ্বেলে দেখেছি।” বিজেপির যুব সংগঠনের কর্মী গণেশ সরকার, সুমন তরফদার, প্রদীপ সামন্তরাও ছিলেন রাতের পাহারায়। তাঁরা বলেন, “যুব মোর্চার বৈঠকের জন্য তৈরি করা মঞ্চ একবার ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তাই এ বারে আর ঝুঁকি নিচ্ছি না। সবাই মিলে আমরা মাঠ রক্ষা করবই।”