আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে ধৃত দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি ভক্তকুমার রায়ের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামল বিজেপি যুবমোর্চা। সোমবার দুপুরে যুবমোর্চার নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন রায়গঞ্জ, গোয়ালপোখর, ইসলামপুর ও চোপড়া থানায় গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দামের দাবি, নির্বাচন কমিশন রবিবার সন্ধেয় লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার আগে দলের তরফে ভক্তের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনী বিধিভঙ্গ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার কাজে পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। সেই আশঙ্কায় এ দিন দলের তরফে জেলা জুড়ে থানা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ লাহিড়ীর দাবি, নির্বাচনের কাজে পুলিশ ও প্রশাসনকে বাধা সৃষ্টি না করে ভক্তের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে খুব শীঘ্রই জেলা জুড়ে একটানা আন্দোলন চলবে। তাঁর অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনে জেলায় বিজেপির নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে আটকাতে তৃণমূল সরকারি ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পুলিশকে দিয়ে ভক্তকে গ্রেফতার করিয়েছে।

গত শনিবার গভীর রাতে রায়গঞ্জ শহরের বন্দর এলাকার বাড়ি থেকে ভক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের দাবি, ভক্তের শোওয়ার ঘর থেকে একটি ছ’ঘরা পিস্তল, একটি পাইপগান, এক রাউন্ড কার্তুজ ও তাঁর বাড়ির উঠোন থেকে একটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে রাখা দু’টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। 

জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্যের দাবি, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীদের জোরে ভোটের আগে বিজেপি জেলায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাস চালানোর ছক করেছে। সেই কারণেই ভক্তবাবু তাঁর বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা মজুত করতে শুরু করেছিলেন। পুলিশ আইন মেনেই কাজ করেছে।’’