এ বার মন্দিরের ভেতরে নয়৷ বরং বেলুড় মঠের কায়দায় মন্দিরের বাইরে কাপড় দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করে হবে দেবী দুর্গার পুজো৷ ভিড় সামাল দিতে এ বছর এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম কর্তৃপক্ষ৷ এই মুহূর্তে আশ্রম প্রাঙ্গণে চলছে পুজো মণ্ডপ তৈরির জোর প্রস্তুতি৷ সেই সঙ্গে চলছে প্রতিমায় রং করার কাজ৷

১৯৬১ সালে জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে দুর্গা পুজো শুরু হয়৷ আগে কখনও মন্দিরের বাইরে দুর্গা পুজো হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা না গেলেও, সাম্প্রতিক কালে কখনও তা হয়নি বলেই আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন৷ পুজোর সময় প্রতিদিনই প্রচুর মানুষের সমাগম হয় রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমে৷ অষ্টমীর দিন কুমারী পুজোয় মানুষের ভিড় আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়৷ মন্দিরের বারান্দায় এত দিন কুমারী পুজোর আয়োজন করা হচ্ছিল৷ কিন্তু ভিড়ের চাপে প্রচুর মানুষ সেই পুজো দেখতে সমস্যায় পড়তেন৷ তাই এ বার দেবী দুর্গার পুজোর পাশাপাশি কুমারী পুজোও হবে আশ্রম প্রাঙ্গণেই৷

রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী শিবপ্রেমানন্দ বলেন, মন্দিরের বাইরে আশ্রম প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজোর আয়োজনের একটা দাবি ছিলই৷ তাঁর কথায়, ‘‘মন্দিরে তো খুব বেশি জায়গা নেই৷ বাইরে পুজো হলে তা অনেক বেশি লোক ভাল করে দেখতে পাবেন৷ তাই এই সিদ্ধান্ত৷’’

আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, বোধনের মধ্যে দিয়ে পঞ্চমী থেকেই রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে শুরু হয়ে যাবে দুর্গাপুজো৷ অষ্টমীর দিন বেলা দশটায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পুজো৷ ওই রাতে হবে সন্ধি পুজো৷ আশ্রমের কর্তারা জানিয়েছেন, এ বার পুজো দেখতে আশা দর্শনার্থীদের মধ্যে লিফলেট দিয়ে দুর্গাপুজো নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা তুলে ধরা হবে৷ পাশাপাশি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নিয়েও পুজোয় প্রচার হবে৷