এক মাস ধরে স্কুলে যায়নি সে। তাই বাড়িতে খোঁজ নিতে এসেছিল সহপাঠীরা। জানতে পারে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে চুপিসারে উত্তরপ্রদেশে বিয়ে দিয়েছেন অভিভাবকরা। কিন্তু যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে বলে দাবি, তার ঠিকানা-ফোন নম্বর কিছুই দিতে পারেননি ছাত্রীর পরিবার। তার পরেই ওই ছাত্রীকে বিয়ের টোপ দিয়ে ভিনরাজ্যে পাচার করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পেরে তদন্তের আশ্বাস দেন নেপাল সীমান্তের খড়িবাড়ির বিডিও যোগেশ চন্দ্র বর্মন।

সন্দেহের কারণ, গ্রামের বাড়িতে বিয়ে হয়নি নাবালিকার। দ্বিতীয়ত, যাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তাঁর নাম-ঠিকানা বলতে পারেনি পরিবার। তরাই-ডুয়ার্সে হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ের টোপ দিয়ে ভিনরাজ্যে পাচারের চক্র সক্রিয় বলে দার্জিলিং জেলা লিগাল এড ফোরামের অভিযোগ।

বাঞ্ছাভিটার বাসিন্দা ওই ছাত্রী খড়িবাড়ির সিঁদুরবালা স্কুলের পড়ুয়া ছিল। দরিদ্র পরিবার। বাবা পুরোহিত। মা চা শ্রমিক। ১৪ বছরের ওই কিশোরীর ভাইও রয়েছে। কিশোরীর বাবার দাবি, মেয়ে এলাকার দুষ্কৃতী-মাতালদের নজরে পড়ে। ‘‘তাই প্রতিবেশীর মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিয়ে দিই। ওর মা মেয়েকে নিয়ে উত্তরপ্রদেশে গিয়ে পাত্রস্থ করেছে।’’

মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে কেন রটল, সে প্রশ্ন করা হলে ওই নাবালিকার মা বলেন, ‘‘বিক্রি করব কেন? জামাই বিয়ের খরচ দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের কাকতালে বিয়ে হয়েছে। জামাই আটা মিলে কাজ করে।’’ তবে জামাইয়ের ফোন নম্বরে ফোন করা হলে তা বাজেনি।

স্কুলশিক্ষিকারা জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি শেষবার স্কুলে গিয়েছিল সে। খোঁজ শুরু হওয়ায় অভিভাবকরা জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি মেয়ের বিয়ে হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা সঞ্চিতা সরকার বলেন, ‘‘কেন বিয়ে দিলেন জানতে চাইলে ওর বাবা জানান, ও নিজেই গিয়েছে।’’ খড়িবাড়ি পঞ্চায়েতের সভাপতি বাদল সরকার বলেন, ‘‘নিরাপত্তা নিয়ে ভয় হলে বলতে পারতেন। এলাকায় মেয়েদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে কিছু শুনিনি। পুলিশকে জানিয়েছি। নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করা হবে।’’