বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভুলে ভরা পরীক্ষার ফলাফল, দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে চলা ভর্তি প্রক্রিয়া-সহ নানান বিতর্কের পর এ বার ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের নালিশ। স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ, মেধা তালিকা টপকে ভর্তি করানো হয়েছে জীববিদ্যা বিভাগে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির বাসিন্দা শিল্পা মণ্ডল নামে এক আবেদনকারী উপাচার্যের কাছে ওই অভিযোগ জানিয়েছেন। মেধা তালিকায় তাঁর নাম ২৩ নম্বরে থাকলেও তাঁকে ভর্তি না করে ওই তালিকায় ৩৫ নম্বরে নাম থাকা একজনকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। 

চলতি বছরে গৌড়বঙ্গের স্নাতক স্তরের পরীক্ষার ফল নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। অভিযোগ, ফলের বেশিরভাগই ছিল ভুলে ভরা। এ নিয়ে আন্দোলনও করে পড়ুয়ারা। এ দিকে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়া গত অগস্ট মাসে শুরু হলেও সেই প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি।  অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক হয়। 

এ বার সেই স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠল। এ দিন হিলির বাবুপাড়ার বাসিন্দা শিল্পা মণ্ডল বলেন, তিনি বালুরঘাট কলেজ থেকে পাশ করে স্নাতকোত্তর স্তরে জীববিদ্যা নিয়ে ভর্তি হতে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। অনার্সে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪২০। ৫২.৬ শতাংশ।  মেধা তালিকায় সাধারণ বিভাগে তাঁর নাম ছিল ২৩ নম্বরে। কিন্তু অভিযোগ, তাঁকে ভর্তি করা হয়নি, অথচ সেই একই মেধা তালিকায় ৩৫ নম্বরে নাম থাকা এক ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে। অনার্সে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৩৮১।

শিল্পার প্রশ্ন, কম নম্বর ও মেধা তালিকায় পেছনে থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে ওই ছাত্রীকে ভর্তি করা হল? ঘটনার তদন্তও দাবি করেন তিনি। 

বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য স্বাগত সেনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি ছুটিতে রয়েছি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন।’’ রেজিস্ট্রার সাধনকুমার সাহা জানান, এখনও অভিযোগ পাননি। পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। তিনি বলেন, ‘‘নানা কারণে স্নাতকোত্তর স্তরে এ বার ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেরি হয়েছে। তা ছাড়া শিক্ষা দফতর থেকে জানানো হয় যে কোনও আসন ফাঁকা রাখা যাবে না, তাই নির্দিষ্ট সময়ের পরেও মেধা তালিকা মেনে ভর্তি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’