বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারের চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়েছে। বুধবার ভোর ৩টে নাগাদ ফাঁসিদেওয়া থানার লালদাস জোতের মহানন্দা সীমান্ত চৌকি এলাকার ঘটনা। বিএসএফ সূত্রের খবর, জখম ব্যক্তির নাম মহম্মদ আব্দুল কুদ্দুস। বাড়ি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার গিরাগাঁও এলাকায়।

মঙ্গলবার রাতে আরও চার পাচারকারীর সঙ্গে কুদ্দুস খোলা সীমান্তের মহানন্দা নদীর দিক থেকে গরু ওপারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। জওয়ানেরা দেখামাত্র পাচারকারীদের থামতে বলেন। পাচারকারীরা তখন উল্টে তার জওয়ানদের উপর পাথর ছুড়তে থাকে। এ ছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ও দেখায়। এক জওয়ান আত্মরক্ষায় গুলি চালালে কুদ্দুস গুরুতর জখম হয়। উদ্ধার হয় ছ’টি গরু। রক্তাক্ত অবস্থায় কুদ্দুস মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই বাকি পাচারকারীরা পালায়। ওই অবস্থায় কুদ্দুসও প্রথমে পালানোর চেষ্টা করেছিল। পরে ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় অন্ধকারে তাকে বিএসএফ জওয়ানেরা উদ্ধার করেন। তাকে ফাঁসিদেওয়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে এ দিন সকালে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পুলিশকেও বিএসএফের তরফ থেকে লিখিতভাবে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। সুস্থ হলে অভিযুক্তকে জেরা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

বিএসএফের উত্তরবঙ্গের ফ্রন্টিয়ারের এক কর্তা জানান, শীত পড়তেই সীমান্তে চোরাকারবারীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। লালদাস থেকে কয়েক কিলোমিটার মহানন্দা নদীর জন্য কাঁটাতারের বেড়া এখনও তৈরি হয়নি। এই সুযোগে গরু এবং চুরির জিনিসপত্র পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রের খবর, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের লালদাস জোত থেকে মুড়িখাওয়া এলাকা অবধি প্রায় ২২ কিলোমিটার সীমান্ত। বিএসএফের লালদাস, বাণেশ্বর, ফাঁসিদেওয়া, কালামগছ এবং মুড়িখাওয়ায় সীমান্ত চৌকি রয়েছে। লালদাস থেকে ধনিয়ামোড় অবধি কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। পরবর্তী এলাকা, বন্দরগছর অবধি প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার কোনও বেড়া নেই। মহানন্দা নদী এবং ভারতীয় গ্রামের জমির সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়ার কাজ এখনও শুরু হয়নি। এই সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা।