স্কুলে যাওয়ার জন্য শুক্রবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ছটফটে ছেলেটা। শনিবার যখন বাড়ি ফিরল তখন তার দেহ নিথর। শিলিগুড়ির পঞ্জাবি পাড়ার বাড়ি তখন ভেঙে পড়েছে কান্নায়। শোকস্তব্ধ গোটা পাড়া।

শিলিগুড়ির আশিঘর এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সৌম্যদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়ির সকলের প্রিয় পুচু। কেউ রাজা বলে ডাকেন। কেউ আবার বাবান। শুক্রবার স্কুলে টিফিনের সময় কবাডি খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছিল সৌম্যদীপ।

অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কুলের সহপাঠীরাই তাকে মাঠ থেকে ধরাধরি করে স্কুলের অফিসে নিয়ে যায়। তখনই স্কুল কর্তৃপক্ষের একজনের গাড়ি করে সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় সৌম্যদীপকে। সেখানেই ওই পড়ুয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গোটা ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্কুলে।    

এ দিন সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে সৌম্যদীপদের আবাসনে। আত্মীয়, পরিজন থেকে শুরু করে সৌম্যদীপের স্কুলের বন্ধু ও তাদের অভিভাবকরা আসেন সেখানে। বাইরে এসে ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন ওই আবাসনের প্রায় সকলেই। সৌম্যদীপের দিদি সায়নী গুরগাঁওতে কর্মরত। শুক্রবার বাড়ির লোকেরা তাঁকে জানিয়েছিল ভাই খুব অসুস্থ। স্কুলে খেলতে গিয়ে চোট পেয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি থাকার কথা জানিয়ে সায়নীকে দ্রুত বাড়ি ফিরতে বলেছিল বাড়ির লোক। সেইমতো শনিবার ভোরের বিমানে বাড়ি চলে আসেন সায়নী। বেলা ১১টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। ছুটে বাড়িতে ঢুকে মাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। 

ময়নাতদন্ত সেরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল থেকে সৌম্যদীপের দেহ বাড়িতে আনা হয় এ দিন বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ। ভাইয়ের দেহ ঢুকতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে তা আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সায়নী। সকাল থেকেই থমথমে মুখে ছিলেন সৌম্যদীপের বাবা সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। ছেলের দেহ দেখে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি তিনি।

শুক্রবারের ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পরে শোকে প্রায় পাথর হয়ে গিয়েছিলেন মা সুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন কেবল বলে চলেছেন, ‘‘আমাদের ছেড়ে ও চলে গেল। ভগবান ওকে দিয়েছিল। আর রাখতে পারলাম না।’’

এ দিন সমবেদনা জানাতে সৌম্যদীপের বাড়ি গিয়েছিলেন এলাকার কাউন্সিলরও।