খরস্রোতা তিস্তায় গাড়ি সমেত তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ তিনজন পর্যটকদের মধ্যে একজনের দেহ উদ্ধার হল।

শুক্রবার দুপুরে শিলিগুড়ি কমিশনারেটের এনজেপি থানার গজলডোবা এলাকার তিস্তায় দেহটি ভেসে উঠেছে। তবে আরও দুই নিখোঁজ পর্যটক ও গাড়ির চালকের এখনও হদিশ মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম আমন গর্গ (২৬)। তাঁর বাড়ি রাজস্থানের বুন্দি এলাকায়। দেহটি উদ্ধারের পর তাঁর পরিবারের লোকজন সেটিকে শনাক্ত করেছেন। বিকেলের মধ্যে দেহটি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। আজ, শনিবার দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

আমনের সঙ্গে রাজস্থানের বাসিন্দা গৌরব শর্মা, গোপাল নারওয়ানি গাড়িতে ছিলেন। বুধবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে রাকেশ রাইয়ের গাড়িটি নিয়ে তাঁরা গ্যাংটক রওনা হয়েছিলেন। রাস্তার সেবক করোনেশন সেতু লাগোয়া ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে কাদা, পাথর পিছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। গাড়িটি সোজা তিস্তায় পড়ে তলিয়ে যায়। গাড়ির মাথায় মালপত্র রাখার ক্যারিয়র, নম্বরপ্লেট উদ্ধার হয়। প্রথমে দু’জন পর্যটক জানা গেলেও পরে তিনজনের খোঁজ মেলে। রাজস্থান থেকে বৃহস্পতিবারই সকলের পরিজনেরা শিলিগুড়ি এসে পৌঁছন।

উদ্ধার কাজ নিয়ে নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল, স্বেচ্ছাসেবীদের র‌্যাফটিং দল, পুলিশ নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। লোহার শিকল, চুম্বক, কাঁটা দিয়ে নদীতে গাড়িটির খোঁজ করা হচ্ছে। তবে নিখোঁজদের পরিবারের লোকজন দাবি, বেশি জলে বিপর্যয় মোকাবিলা জলের সদস্যরা যাচ্ছেন না। মৃতের ভাই আকাশ গর্গের অভিযোগ, ‘‘বিপর্যয় মোকাবিলা দলটি ঠিকঠাক তল্লাশি করছে না।’’ আরেক নিখোঁজ গৌরব শর্মার এক আত্মীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘গভীর জলে প্রশিক্ষিতদের দিয়ে তল্লাশি চালানো হোক। সেনা বাহিনী আসলেও রাজ্য না বললে তাদের ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বর্তমান উদ্ধারকারী দলের সরঞ্জামও ঠিক নেই।’’

দার্জিলিং জেলা পুলিশের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, তিস্তায় গত কয়েক দশক ধরে এই দলগুলির উদ্ধারের কাজ চালায়। তিস্তা অত্যন্ত খরস্রোতা হওয়ায় র‌্যাফটিং করেও বেশিক্ষণ টানা তল্লাশি করা যায় না। আর তিস্তার যা গভীরতা, তাতে জলের তলে তল্লাশির মতো ডুবুরি এই অঞ্চলে নেই। তল্লাশিতে গাফিলতির কোনও বিষয় নেই।