দাড়িভিট-কাণ্ড নিয়ে গোড়া থেকেই সিবিআই তদন্তের দাবি তুলছিলেন নিহত দুই যুবকের পরিবার। শুক্রবার ময়নাগুড়ির চূড়াভাণ্ডারে সভার আগে হেলিপ্যাডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে  দেখা করার সুযোগ পেয়ে সেই দাবিই ফের তুলেছিলেন। সেখানে তাঁদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস মেলায় কিছুটা স্বস্তিতে নিহত রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মণের পরিবার।

এ দিন হেলিপ্যাডে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই দুই পরিবারের লোকেরা মিনিট চারেক কথা বলতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সিবিআই তদন্তের আশ্বাস মিলেছে বলেও দাবি নিহত পরিবারের সদস্যদের। বিজেপি নেতৃত্ব দাড়িভিটের বিষয়টি নিয়ে একটি দাবিপত্রও প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানান। 

এ দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দাড়িভিট থেকে ভোরে রওনা হন রাজেশ এবং তাপসের বাবা-মা নীলকমলবাবু-ঝর্নাদেবী এবং বাদল বর্মণ এবং মঞ্জুদেবীরা। দুপুরের মধ্যেই  বিজেপি নেতাদের সঙ্গে ময়নাগুড়িতে পৌঁছে যান তাঁরা। এর পর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে আসার সময় হলে বিজেপির নেতাদের  সঙ্গে হেলিপ্যাডে পৌঁছে যান তাপস এবং রাজেশের বাবা। প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার সময় বিজেপি নেতা নিহত রাজেশ ও তাপসের পরিবারের লোকেদের কথাটি জানান প্রধানমন্ত্রীকে। সে সময় তাঁদের দাবির বিষয়টি লিখিত ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করেন দলীয় নেতৃত্ব। 

নীলকমলবাবু বলেন, ‘‘আমরাও প্রধানমন্ত্রীকে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন সিবিআই নিয়ে। দেশের সর্বোচ্চ নেতার আশ্বাস পেয়েছি। তদন্ত হবে এই বিশ্বাস রয়েছে।’’

নিহতদের পরিবারের বক্তব্য, তাঁরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে। বিজেপির চোপড়া এলাকার নেতা সুবোধ সরকারও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বলে দাবি নিহতের পরিবারের। সুবোধবাবু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি পেশ করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার।’’ বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলার সহ সভাপতি সুরজিৎ সেন জানান, রাজেশ ও তাপস এর বাবা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও  বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অমল আচার্য বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওঁদের কী কথা হয়েছে জানি না। কিন্তু রাজ্য না চাইলে শুধু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সিবিআই তদন্ত হতে পারে না।’’

গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দাড়িভিট স্কুল। গুলি চলে, বোমাবাজি হয়। গুলিতে মারা যান তাপস এবং রাজেশ।