প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবোরেটরির কাছে রেলিং দিয়ে ঘেরা পার্ক জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। মেডিসিন বিভাগের সামনে জমে রয়েছে জল। জল জমছে করিডর নির্মাণ কাজের জায়গাতে, জরুরি বিভাগের সামনেও। হাসপাতালের সুপারের দফতরের অশেপাশের জয়গা ঝোপ-জঙ্গলে ভরা। ডেঙ্গি রোগ সংক্রমণের মরসুমে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাসের এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সপ্তাহখানেক আগে শিলিগুড়িতে আট জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যে ডেঙ্গি প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা বিশেষ আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি এবং ডেপুটি ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ নিয়োগী। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ক্যাম্পাসের ওই পরিস্থিতি তুলে ধরেন জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক। দ্রুততার সঙ্গে ক্যাম্পাস পরিষ্কারের উপর জোর দিতেও বলা হয়।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের সুপার কৌশিক সমাজদার বলেন, ‘‘এত বড় ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার মতো পর্যাপ্ত কর্মী নেই। তবে তার মধ্যেও চেষ্টা করা হয়। বর্ষায় চারদিকে ঝোপজঙ্গলে ভরে যাচ্ছে। সে সব সাফাই করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’’ ইতিমধ্যেই ১ অগস্ট হাসপাতালগুলোতে ‘সেভ গ্রিন, স্টে ক্লিন’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ওই দিন এক দফায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ভাবনা রয়েছে। 

রোগীর পরিবারের লোকজনও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কোচবিহারের বাসিন্দা অতনু দে, খড়িবাড়ির রাজু বর্মণদের আত্মীয় ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। ক্যাম্পাসেই তাঁদের থাকতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘মশার উপদ্রবে বসা দায় হাসপাতালের কোথাও। বিশ্রামাগারে বসে থাকার উপায় নেই। চারদিকে ঝোপ জঙ্গল, জলে ভরে রয়েছে। হাসপাতালের এমন হাল হলে বলার কিছু নেই।’’ তাঁদের বক্তব্য, এমন ভাবে চলতে হলে তাঁদেরও বড় রোগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুপার স্পেশালিটি ব্লকের নির্মাণ কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে রয়েছে। সেখানেও জল জমে থাকছে অনেক জায়গায়। রোগীর পরিবারের আশঙ্কা এমন হলে তো হাসপাতালে এসেই অনেকে ডেঙ্গির মতো রোগে আক্রান্ত হবেন। এমনিতেই জ্বর নিয়ে প্রচুর রোগী প্রতিদিনই আসছেন হাসপাতালে। 

ডেঙ্গি প্রতিরোধে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতেও পরিস্থিতি দেখভালের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার বিষয়টি জানানো হয়েছে।