দলের স্বাস্থ্য দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী। মঙ্গলবার জেলায় এসে দলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সৌরভের দাবি, উত্তরবঙ্গের চার জেলার দলের কোর কমিটির সহ সভাপতি হওয়ার পরেও জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির কোনও বৈঠকে তাঁকে ডাকা হয় না।

দলীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি জেলা সভাপতি পদে রদবদলের পরে কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী ও সৌরভ চক্রবর্তীর মুখ দেখাদেখি কার্যত বন্ধ। সম্প্রতি দলের কৃষক সংগঠনের এক সভায় দুই নেতাকে পাশাপাশি মঞ্চে বসতে হয়েছিল। স্বল্প সময়ের মধ্যে মঞ্চ ছেড়ে সৌরভ বেরিয়ে গিয়েছিলেন বলে দলের নেতাদের একাংশের দাবি।

সোমবার দলের জেলা কার্যালয়ে জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা ছিল। সেখানে তাঁকে ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ সৌরভের। তিনি বলেন, ‘‘আমি তো সোমবার জলপাইগুড়ি শহরেই ছিলাম। দলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা কমিটির বৈঠক নিয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয় নি। নতুন সভাপতি আমার সঙ্গে কোনও রকম আলোচনাই করেন না।’’ যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলের বর্তমান জেলা সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী। তিনি বলেন, ‘‘সৌরভ চক্রবর্তীকে সভার খবর জানানোর জন্য ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরেননি।’’

সোমবারের বৈঠকে জেলায় দলের ১৫টি সাংগঠনিক ব্লক কমিটির মধ্যে ১০ জন ব্লক সভাপতিকে বদলে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে দলের ভিতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন নেতাদের একাংশ। জেলার এক শীর্ষ নেতার দাবি, এ ভাবে ব্লক সভাপতিদের বদল করা যায় না।

দলের জেলা কমিটির সদস্যদের একাংশের দাবি,  জেলা কমিটির সভার জন্য কেন নোটিস পাঠানো হবে না? আর একটি অংশের পাল্টা দাবি, সোমবার জেলা কমিটির সভা ছিল না। শুধুমাত্র ব্লকের নেতাদের ডাকা হয়েছিল।