বিজেপির জয় কি শাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রকাশ
নব্য নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে৷ বহু নেতাদের পেশিশক্তির আস্ফালনও মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ৷
JOHN BARLA

জন বার্লা। ছবি: নারায়ণ দে

এক বছর আগের পঞ্চায়েত নির্বাচনেই একটা ইঙ্গিত মিলেছিল৷ অবশেষে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েই নিল আলিপুরদুয়ার৷ এই কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভার প্রতি এলাকাতেই পদ্মফুল ফোটালেন বিজেপি নেতারা৷

বিজেপি সূত্রে খবর, ২০১৪-র লোকসভা ভোটের পর থেকেই জেলায় নিজেদের জমি শক্ত করতে শুরু করে বিজেপি৷ দু’বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে চা বাগান অধ্যুষিত মাদারিহাট আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপি৷ এক বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটে সার্বিক জয় না পেলেও অনেক জায়গাতেই তৃণমূলকে বেগ দেন বিজেপি নেতারা৷ খোদ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের একাংশের মতে, দল ভারী হওয়া শুরু করতেই পুরনো নেতাদের অনেকেই কোণঠাসা হতে শুরু করেন৷ নব্য নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে৷ বহু নেতাদের পেশিশক্তির আস্ফালনও মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ৷ দলের নেতা-কর্মীদের একাংশেরই অভিযোগ, তাঁদের সতর্ক করার বদলে দলের অন্দরে বা প্রশাসনে নতুন নতুন দায়িত্বে বসানো হয়েছে৷ ফলস্বরূপ পঞ্চায়েত নির্বাচনে চা বলয়ে ধাক্কা খেতে হয় তৃণমূলকে৷ তৃণমূল সূত্রে খবর, তা বুঝেই জেলার এক বিধায়ককে সরকারি একটি সংস্থার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আরেক বিধায়ককে মন্ত্রিত্ব খোয়াতে হয়৷ কিন্তু নেতাদের অনেকেই বলছেন, তারপরও আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের মানুষ খড়কুটোর মত অন্য একটি দলকে খুজছিলেন৷ বিজেপির বিরাট জয়ে বৃহস্পতিবার তারই প্রতিফলন ঘটল বলে তাঁদের দাবি৷

এ দিন জয়ের পর জন বলেন, “তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষ এই রায় দিয়েছেন৷ এই জয় আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের প্রতিটি মানুষের জয়৷” তবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, “আমরা হার মেনে নিচ্ছি৷ কিন্তু এটা মানুষের রায় নয়৷ জেলার মানুষ আমাদের পাশেই রয়েছেন৷ ইভিএমের কারচুপি না হলে এই ফল সম্ভব নয়৷ জেলায় রাম-বামও এক হয়ে যাওয়াটাও একটা ফ্যাক্টর হয়েছে৷” যা শুনে বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা আবার বলেন, “এ সব কথা না বলে মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে মোহনবাবুদের উচিত নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর পথ খুঁজে বের করা৷”