সমস্যা মেটাতে দেখা করতে চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছিলেন মালদহের গনি খান চৌধুরী নামাঙ্কিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (জিকেসিআইইটি) পড়ুয়ারা। ই-মেলও করা হয়েছিল পড়ুয়াদের তরফে। অবশেষে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের। 

কলকাতা থেকে পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১২টায় রাজভবনে জিকেসিআইইটির পাঁচজন প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করবেন রাজ্যপাল। রাজভবনের অফিসার-অন-স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি)-র তরফে ই-মেল মারফত তা জানানো হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে রাজ্যপালের সঙ্গে কারা দেখা করতে যাবেন এবং আলোচনায় কী কী সমস্যার কথা বলা হবে সেইসব ঠিক করতে বৃহস্পতিবার সন্ধেয় কলকাতার অ্যাকাডেমি চত্বরে পড়ুয়ারা একটি বৈঠকও করেন।    

এদিকে, জিকেসিআইইটি থেকে মড্যুলার প্যাটার্নে উত্তীর্ণ পড়ুয়াদের সার্টিফিকেট প্রদান ও ল্যাটারাল এন্ট্রি করে বি টেকে ভর্তির ব্যবস্থার দাবিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন কলকাতা ও মালদহ একযোগেই চলছেই। মালদহ কলেজ চত্বরে তাঁদের অবস্থান আন্দোলন এ দিন ৪০ দিনে পড়ল। অপর দিকে, কলকাতায় ১০ অগস্ট থেকে তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। এ দিন সেই আন্দোলনও ২১ দিনে গড়াল। এ মাসের ২ তারিখ থেকে পড়ুয়ারা কলেজের এ ও বি ব্লক বন্ধ করে রেখেছেন। গত ২০ তারিখ থেকে সি ব্লকও তাঁরা বন্ধ করেন। ফলে ২১ তারিখ থেকে কলেজ কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। নবাগত ডিপ্লোমা ও বিটেকে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের কোনও পঠন-পাঠনও হচ্ছে না। নবাগত পড়ুয়ারা এসে ঘুরে যাচ্ছেন। এ দিনও কলেজ অচল ছিল। 

মালদহে আন্দোলনকারী পড়ুয়া নাসিম নাওয়াজ বলেন, “আমাদের দাবি না মেটা পর্যন্ত এভাবেই কলেজ অচল করে রাখা হবে।” এ ছাড়া কলকাতা থেকে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের পক্ষে এ দিন সাহিন জাহেদি বলেন, “এর আগে আমরা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীকেও সমস্যা মেটানোর দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও তরফেই কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। রাজ্যপালকেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল একই দাবিতে। রাজ্যপাল আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। রাজভবন থেকে মেল মারফত পাঁচজন প্রতিনিধিকে ৪ সেপ্টেম্বর দেখা  করতে বলা হয়েছে। আমরা যাব। আমাদের বক্তব্য রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরব। আশা করছি, তিনি আমাদের ন্যায্য দাবি সহানুভুতির  সঙ্গে বিবেচনা করবেন।’’ এদিকে, পড়ুয়াদের আন্দোলন সংক্রান্ত বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কেউ কোনও মন্তব্য করেননি এ দিনও।