নদী থেকে বালি-পাথর তোলা বন্ধের সরকারি নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন৷ তার জেরে শুরু হওয়া আন্দোলনকে ঘিরে প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে আলিপুরদুয়ারে৷

প্রশাসনের একাংশের অভিযোগ, বেআইনি বালি-পাথরের কারবারে যুক্ত একটা চক্রের মদতেই জেলার বেশ কিছু জায়গায় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে৷ কোথাও কোথাও আবার এই আন্দোলনে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সামিল হওয়ায় গোটা বিষয়টিতে রাজনৈতিক রং লাগতেও শুরু করে দিয়েছে৷

বর্ষার মরসুমে নদী থেকে বালি-পাথর তোলা যাবে না বলে দিন কয়েক আগে নির্দেশ জারি করে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন৷ সরকারি ওই নির্দেশের পরই জেলার সমস্ত নদী থেকে বালি-পাথর তোলা বন্ধ হয়ে যায়৷ কিন্তু ওই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কয়েকটি জায়গায় অবাধে বালি-পাথর তোলা জারি থাকে বলে অভিযোগ৷ বিষয়টি নজরে আসতেই সেইসব জায়গায় নজরদারি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়৷

এই অবস্থায় সরকারি নির্দেশের প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে৷ প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশে জেলার নদীগুলি থেকে বালি-পাথর তোলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা সমস্যায় পড়েছেন এটা ঠিকই৷ কিন্তু সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এই কারবারে বেআইনিভাবে যুক্ত একটি চক্র৷ আর সেই চক্রটিই বিভিন্ন জায়গায় এই আন্দোলনে মদত দিয়ে চলছে বলেও অভিযোগ উঠছে৷

কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় এই আন্দোলনে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের সামিল হতে দেখা যাওয়ায় বিরোধীরা, বিশেষ করে বিজেপি নেতারা ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে হাতিয়ার করতে শুরু করেছেন৷ দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায়ের অভিযোগ, “তৃণমূল নেতাদের একটা বড় অংশ বেআইনি বালি-পাথরের কারবারে যুক্ত৷ সরকারি নির্দেশের ফলে তাদের কামাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ সেজন্যই নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধে তারা জেলার বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকদের লেলিয়ে দিচ্ছেন৷” তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, “বিচ্ছিন্নভাবে কেউ আন্দোলনে সামিল হতে পারেন৷ তবে তৃণমূলের আলিপুরদুয়ারের নেতারা সার্বিকভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে৷” কিন্তু দলের নেতা তথা খোদ আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান আশিস দত্তই বলছেন, “নদী থেকে বালি-পাথর তোলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরসভার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ থমকে গিয়েছে৷ বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি৷” সূত্রের খবর, সরকারি এই নির্দেশের ফলে জেলায় প্রচুর মানুষ কাজ হারিয়েছেন বলে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন৷ যদিও মোহনবাবু বলেন, “কোনও কিছু নিয়ে সমস্যা হলে আমরা দলকে জানাতেই পারি৷ তবে এর সঙ্গে সরকারি নির্দেশ না মানার কোনও সম্পর্ক নেই৷”

আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক নিখিল নির্মল বলেন, “নদী থেকে বালি-পাথর তোলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর জেলায় কোনও উন্নয়নমূলক কাজ থমকে গিয়েছে বলে কোনও খবর আমার কাছে নেই৷ তবে কিছু কাজে গতি কমেছে বলে শুনছি৷”