দেবশ্রী বহিরাগত, দাবি উঠছে দলেই
দেবশ্রীর আদিবাড়ি বালুরঘাটে। তিনি বালুরঘাটের খাদিমপুর হাইস্কুল ও বালুরঘাট কলেজে পড়াশোনা করেন।
Deboshree Chowdhury

রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী। —ফাইল চিত্র

রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ৪০ জনের নাম রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠায় জেলা। কিন্তু তাঁদের কাউকেই প্রার্থী করেননি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের জেলা নেতাদের অনেকেরই বক্তব্য, বরং যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, সেই দেবশ্রী চৌধুরী এখন কলকাতায় থাকেন। জেলার কাউকে না করে কেন ‘বহিরাগত’ দেবশ্রীকে প্রার্থী করা হল, তাই নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে।

বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি নির্মল দামের দাবি, ‘‘জেলায় দলের নেতা-কর্মীরা জেলার বাসিন্দা যোগ্য কাউকে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দেবশ্রীকে রায়গঞ্জের প্রার্থী করেছেন। তাই দলের কিছু নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়েছে।’’

নির্মলের কথায়, দল যাঁকে প্রার্থী করেছে, তাঁকে মেনে নিয়ে তাঁর সমর্থনে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা এলাকার বিজেপির নেতা ও কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেবশ্রীর আদিবাড়ি বালুরঘাটে। তিনি বালুরঘাটের খাদিমপুর হাইস্কুল ও বালুরঘাট কলেজে পড়াশোনা করেন। তবে গত প্রায় দু’দশক তিনি কলকাতার বাসিন্দা। অতীতে তিনি এবিভিপি ও যুব মোর্চার রাজ্য নেত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। এখন দলের একমাত্র মহিলা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ২০০৬ সালে বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্র ও ২০১৪ সালে দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে লড়েও হেরে যান তিনি।

বিজেপির জেলা নেতাদের একাংশ জানিয়েছেন, যে ৪০ জনের নাম প্রস্তাবিত প্রার্থী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি শঙ্কর চক্রবর্তী, কয়েক মাস আগে মহিলা কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রীর পদ ছেড়ে দলে যোগ দেওয়া শিবানী মজুমদার-সহ জেলায় দলের বিভিন্ন ব্লকের নেতা সৌম্যরূপ মণ্ডল, অসীম মণ্ডল, মিহির রায়, প্রবীর ঘোষ প্রমুখ।

দলের জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক নেতার কথায়, জেলাতেই প্রার্থী হওয়ার যোগ্য লোক ছিলেন। কিন্তু তাঁদের ফেলে ‘বহিরাগত’ দেবশ্রীকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাতে ক্ষুব্ধ অনেকেরই প্রশ্ন, প্রার্থী হওয়ার মতো জেলায় কি যোগ্য কোনও নেতানেত্রী নেই? 

জেলা নেতাদের একাংশের দাবি, দেবশ্রী এ বছর বালুরঘাট থেকে প্রার্থী হতে চান। কিন্তু সুকান্ত মজুমদারকে সেখানে প্রার্থী করা হয়। তখন দলের রাজ্য নেতৃত্ব দেবশ্রীকে রায়গঞ্জে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেন।

গত বছর দাড়িভিট কাণ্ডের পর ইসলামপুর ও রায়গঞ্জে বিজেপির একাধিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেলায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পরিচিতি পান দেবশ্রী।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯