একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ‘কাটমানির পাল্টা ব্ল্যাকমানি’ নিয়ে দ্রুত আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কী ভাবে সেই আন্দোলন দানা বাঁধবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় জেলার দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। আপাতত শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় ২৬ ও ২৭ জুলাই মিছিলের ডাক দিয়েছেন স্থানীয় নেতৃত্ব। সেখানে ব্ল্যাকমানি ফেরানোর দাবি এবং ‘উজ্জ্বলা’র মতো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলা হবে।

বুধবার পর্যটনমন্ত্রী তথা দলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি গৌতম দেব শিলিগুড়িতে ফিরে জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। পর্যটনমন্ত্রী সোমবার বলেন, ‘‘দলের কর্মসূচি মেনে আপাতত ২৬ জুলাই শিলিগুড়ি শহরে মিছিল হবে। পরদিনও শিলিগুড়ি বিভিন্ন এলাকায় মিছিল হচ্ছে। বাকি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।’’ তৃণমূল নেতা তথা শিলিগুড়ি পুরসভার বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার জানান, নেত্রীর নির্দেশ মেনেই ব্ল্যাকমানি ফেরানোর দাবিতে মিছিল হবে। মিছিল ছাড়া আর কী ভাবে আন্দোলন করা যায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় নেতারা। দার্জিলিং জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি বিকাশ সরকার বলেন, ‘‘মন্ত্রী ফিরে আলোচনায় বসবেন। তখনই বিষয়টি ঠিক হবে।’’ 

বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের ওই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, সারদা-নারদ কেলেঙ্কারি নিয়ে জর্জরিত তৃণমূল কাটমানি-ব্ল্যাকমানি সব দোষেই দুষ্ট। বিজেপির দার্জিলিং জেলা সভাপতি অভিজিৎ চৌধুরীর কথায়, ‘‘ব্ল্যাকমানির মিথ্যে গল্প বলে তৃণমূল মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে। তাতে আখেরে কোনও লাভ হবে না। তৃণমূল নেতারা সব ক্ষেত্রে কাটমানি খেয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। সেই টাকা এখন মানুষ ফেরত চাইছে। মানুষকে বোকা ভাবার কারণ নেই।’’  

সিপিএম অবশ্য এই দুই দলের রেষারেষিকে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রতিযোগিতা বলেই মনে করছেন। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক তথা জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার বলেন, ‘‘হতাশা থেকেই তৃণমূল নেত্রী এসব বলছেন। দুর্নীতির প্রশ্ন তো তৃণমূলকে নিয়েই। তবে বিজেপিও ধোওয়া তুলসী পাতা নয়। তারা বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার করবে বলেছে।’’ দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জীবন মজুমদার বলেন, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল আন্দোলন করবে কী? আন্দোলন তো কংগ্রেস করছে। তখন তৃণমূল সঙ্গ দেয়নি। তেমনি কাটমানি নিয়ে তৃণমূলের উপর তলার মদত রয়েছে বলেই নিচুস্তরের নেতারা নিতে সাহস পেয়েছে।’’