সরকারি প্রকল্পে তালিকায় নাম থাকা সকলে বাড়ি পেলেন কিনা, এ বার থেকে দেখভাল করবে জেলা পরিষদও। জব কার্ড রয়েছে এমন সকলে একশো দিনের কাজ পাচ্ছেন তো— খবর রাখবে জেলা পরিষদ। সোমবার নবান্নের সভাঘরে জেলা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে এমনই নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন বলে খবর। এই প্রকল্পের কাজগুলি  ব্লক প্রশাসন থেকেই করানো হয়। এ বার তাতে নজরদারি করবে জেলা পরিষদ। জলপাইগুড়ি-সহ অন্যান্য জেলা পরিষদের সদস্যদের প্রতি মাসে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

লোকসভায় জলপাইগুড়িতে বিপুল ভোটে হেরেছে তৃণমূল। দলের একাংশের দাবি, জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াতেই এমন হয়েছে। জেলা পরিষদের সদস্যদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের সমস্যা শুনতে হবে। জেলা পরিষদের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় নেই বলেও অভিযোগ উঠেছিল। সে কারণে প্রতি মাসে কর্মাধ্যক্ষদের বৈঠক করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে মাসে অন্তত একবার বৈঠক করতে হবে পদাধিকারীদের। 

জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের এক সদস্যের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বারবার মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথা বলেছেন। কত দিন পরপর কী কী বৈঠক করতে হবে, তা-ও বলে দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, ব্লক প্রশাসনের ওপরেও কিছু প্রকল্পে নজরদারি চালাতে হবে।”

সম্প্রতি কাটমানি বিতর্কে অভিযোগ উঠছিল সরকারি প্রকল্পে ঘর এবং একশো দিনের কাজ দেওয়া নিয়ে। নিজের এলাকায় উপভোক্তা তালিকায় কাদের নাম রয়েছে এবং কারা ঘর পেলেন— তা যেমন জেলা পরিষদের সদস্যদের নজর রাখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনিই অনিয়ম হয়েছে কি না, তা-ও দেখতে বলেছেন। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সেগুলি প্রশাসনিক বিষয়। আমরা মানুষের পাশে ছিলাম, আরও বেশি করে থাকার চেষ্টা করব।”    

এ দিকে নবান্নের সভাঘরে জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থিতি ছিল তৃণমূল নেতা কৃষ্ণকুমার (কিষাণ) কল্যাণীর। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি কিষাণবাবুকে দেখা গিয়েছিল একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও। সম্প্রতি তিনি দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে তৃণমূল না করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তাঁর সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষেরও বৈঠক হয় বলে খবর। এর পরেই কিষাণবাবুকে দলে রাখতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তৃণমূল নেতারা। তাঁকে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে আলাদা করে কথা বলেন মুখ্যন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলেন। তার পর থেকেই কিষাণবাবুকে একুশে জুলাই এবং এ দিন জেলা পরিষদের সদস্যকের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গেল।