দুপুর ১টা ৫০। দেশবন্ধু পাড়ায় তরাই তারাপদ হাইস্কুলের ঠিক উল্টো দিকে খোলা সুবীর কুণ্ডুর পানের দোকান। টিফিনের অবসরে স্কুলের ছাত্ররা ছাড়াও পাশের সূর্যসেন কলেজের ছাত্ররাও হাজির সেখানে। দোকানের একেবারে সামনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করা গেল, গুটখা আছে? দোকানির জবাব, আছে। পাঁচ টাকা এগিয়ে দিতেই বেরিয়ে এল গুটখার পাউচ। রাজ্য সরকারের নির্দেশে বৃহস্পতিবার থেকেই সারা রাজ্যে আগামী এক বছরের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা তামাকজাত গুটখা ও পানমশলার বিক্রি। শিলিগুড়িও তার বাইরে নয়। কিন্তু কোথায় নজরদারি? 

কেন বিক্রি করছেন? আমতা আমতা করে স্কুলের উল্টো দিকে ওই দোকানি বলেন, ‘‘এই কয়েকটাই পড়ে রয়েছে। শেষ হয়ে গেলেই আর নতুন মাল তুলব না।’’ তিনি জানান, রোজ ৬০ প্যাকেট গুটখা বিক্রি হয়। তার মধ্যে গোটা আষ্টেক প্যাকেট কেনে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। কিছু প্যাকেট যায় কলেজ পড়ুয়াদের পকেটেও।

তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসের মুখে পাঁচ টাকার পানমশলা বিক্রি হয়েছে ৮ টাকায়। শিলিগুড়ি আদালত চত্বরে ২৫ টাকার গুটখা ও তামাক বিক্রি হতে শুরু করেছে ৩০ টাকায়। তবে শিলিগুড়ি কলেজের গেটে, হাসপাতালের সামনে এবং শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের আশেপাশের গুটখা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা আর প্যাকেট তুলছেন না। পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখা মূলত এই ধরনের সামগ্রীর উপর নজরদারি রাখে। ওই শাখার কর্তারা জানান, সব জায়গাতেই নিষিদ্ধ খাবারের উপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কিন্তু আলাদা করে গুটখা বা পান মশলার উপর কোনও নজরদারি বা অভিযান এ দিন পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে করা হয়নি বলেই সূত্রের দাবি।

শিলিগুড়ির এসডিও সুমন্ত সহায় বলেন, ‘‘২০১৩ সাল থেকেই তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধ রয়েছে। নির্দেশের পুনর্নবীকরণ হয়েছে মাত্র। পুরসভা এবং পুলিশের এগুলি দেখার কথা।’’ প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, এ ছাড়াও সমস্ত সরকারি অফিসে নিজ নিজ প্রাঙ্গণে যাতে পানমশলা বিক্রি না হয়, তা নজরে রাখতে বলা থাকে।  

শিলিগুড়ি পুর এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকদের এই কাজ করার কথা। কিন্তু তাঁরা এই নির্দেশিকা পাননি বলেই জানান পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা। তাঁদের একজন বলেন, ‘‘প্রশাসনের তরফে নতুন নির্দেশের কপি আসেনি। তা হাতে না নিয়ে অভিযান চালালে সমস্যা হতে পারে।’’ 

তাই শহরে তামাক বিরোধী অভিযান প্রথম দিনই হয়নি বলে অভিযোগ। সেই সুযোগেই শিলিগুড়ি আদালত চত্বর থেকে শুরু করে এনজেপি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সব জায়গায় বিকিয়েছে নিষিদ্ধ গুটখা, পানমশলা। এনজেপি স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের একপ্রান্তে খাবারের স্টল জিআরপি থানা থেকে মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে। গিয়ে গুটখা চাইতেই দোকানি অপু দাস বলেন, ‘‘রয়েছে। এক প্যাকেট ১০ টাকা লাগবে।’’