মালদহে সরকারি সফরে এসে মঙ্গলবার দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। দলনেত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকের জন্য দলীয় স্তরে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব।

দলীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে হেলিকপ্টারে বিকেল চারটে নাগাদ মালদহে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনিক বৈঠকের আগেই দলীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করতে পারেন। ওই বৈঠক মহানন্দা ভবন বা সানাউল্লা মঞ্চে হতে পারে। দলের অন্দরমহলের খবর, বৈঠকে মালদহের জেলা নেতৃত্বে ‘দ্বন্দ্ব’ মেটাতে দলনেত্রী কড়া বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, জেলায় একাধিক কলেজ-সহ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব দলের জেলা নেতাদের তরফে দলনেত্রীর কাছে রাখা হতে পারে। 

দেড় বছর পরে মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক করতে মালদহে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারে যাচ্ছেন। পরের দিন সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তিনি আসবেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে। সেখানে বৈঠক সেরে হেলিকপ্টারে আসবেন মালদহে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার জন্য দু’টি বন্দোবস্ত রাখা হচ্ছে। একটি মালদহ বিমানবন্দর, অন্যটি পুরাতন মালদহে মহানন্দা ভবনের পাশের তাঁতিপাড়া মাঠ। মহানন্দা ভবনেই থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহে জেলা প্রশাসনিক বৈঠক হবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে, দুর্গাকিঙ্কর সদনে। মহানন্দা ভবন থেকে সড়ক পথে মুখ্যমন্ত্রী সেই সভায় যোগ দেবেন। 

তৃণমূল সূত্রে খবর, মালদহে জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকের আগে দলের জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা। তৃণমূলের একটি সূত্রে জানিয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনে জেলার দু’টি আসনে দলের ভরাডুবি হয়েছে। জেলার ১২টি বিধানসভাতেই ফলাফল হতাশাজনক। দু’টি লোকসভা আসনেই তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তার উপরে চর্চায় রয়েছে জেলায় দলীয় নেতা-নেত্রীদের ‘দ্বন্দ্ব’ও। মাস দু’য়েক আগে জেলার দু’টি পুরসভাতেই দলীয় পুরপ্রধানদের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন দলের কাউন্সিলরেরাই। রাজ্য নেতৃত্ব হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামলানো হয়। আগামী বছরের শুরুতেই দু’টি পুরসভা ভোট। এ সবের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিতে পারেন বলে খবর।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে জেলা নেতৃত্বের একাংশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দাবি নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাখতে পারেন। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালিয়াচক-২, রতুয়া-২ ও আদিবাসী প্রভাবিত হবিবপুর ব্লকে কলেজ চালু।

দলের জেলা সভাপতি মৌসম নুর বলেন, ‘‘জেলা সফরে এসে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব আমরা আগেই দলনেত্রীর কাছে রেখেছিলাম। দলনেত্রী মঙ্গলবার বিকেলে সেই বৈঠক করতে পারেন। আমরা সেই বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’’