থুতু ফেললেই জরিমানা হবে দুশো টাকা। কোচবিহার জেলা হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এমনই নির্দেশ লাগু করার সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  সাত দিন পর থেকে ওই নিয়ম কার্যকর করা হবে। এই সাতদিন হাসপাতালে আসা মানুষজনকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন করতে প্রচার চালাবে রোগী কল্যাণ সমিতি। সমিতির চেয়ারম্যান মিহির গোস্বামী বলেন, “হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতেই ওই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে আমাদের। বার বার অনুরোধ করা হলেও অনেকেই তা মানছেন না। ফলে হাসপাতালের নোংরা নিয়ে বার বার অভিযোগ উঠছে। আশা করছি এবারে পরিস্থিতি পাল্টাবে।” কোচবিহার এমজেএন হাসপাতালের সুপার জয়দেব বর্মন বলেন, “হাসপাতাল পরিষ্কার রাখতে আমরা টানা প্রচার চালাই। নানা জায়গায় লিখেও প্রচার করা হয়েছে। জরিমানার বিষয়টি এবারেই প্রথম।”

হাসপাতাল সূত্রের খবর, জেলা হাসপাতালের ভিতরে ও বাইরে নোংরা জমা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে বারবার। মেল মেডিক্যাল ওয়ার্ড, প্রসূতি বিভাগ সহ করিডরের ভিতরে একাধিক জায়গায় পানের পিক ফেলে রাখা হয়। বহু জায়গায় ওই পিক দেওয়ালে জমে গিয়ে লাল রঙ হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় খাবারের অংশ পড়ে থাকে। বিড়ি, সিগারেট, গুটকার পাতাও পাওয়া যায়। তাতে রোগীদের একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে দিন কাটাতে হয়। সমিতি জানিয়েছে, এবার থেকে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ওই বিষয়ে নজরদারি করবেন।

এ ছাড়া নিরাপত্তা সহ নানা দিক মাথায় রেখে হাসপাতালের করিডরে সিসিটিভি বসানো হবে। তার মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। অনেকেই অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন,আর হাসপাতালের বহু জায়গা এমন হয়ে রয়েছে  দেখলে মনে হয় সেখানে নোংরা ফেলা হয়। তাই অনেকেই ভুল করে সেখানে থুতু ফেলতে পারেন। তাই সে দিকে আগে নজর দেওয়া উচিত। সে ব্যাপারে চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের বাইরের নোংরা নিয়মিত পরিষ্কারের জন্য কোচবিহার পুরসভার কাছে আর্জি জানানো হবে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।  

পাশাপাশি, রোগীদের মন ভাল রাখতে এবার গান বাজবে জেলা হাসপাতালে। করিডরে থাকা সাউন্ড সিস্টেমে মৃদুস্বরে বাজতে পারে রবীন্দ্রসঙ্গীত বা লোকগীতি। সমিতি সূত্রের খবর, খুব দ্রুত করিডরে সাউন্ড সিস্টেম বসানোর কাজ করা হবে। ওই সিস্টেমের মাধ্যমে রোগীদের খবরাখবর নিয়মিত তাঁদের আত্মীয়দের জানানো হবে। সেই সঙ্গে বাজানো হবে গান। মিহিরবাবু বলেন, “চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে মৃদুস্বরে গান বাজানো হবে। যাতে রোগীরা ওই গান শুনে আনন্দ পান সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”