‘কাটমানি’ নিয়ে যখন গোটা রাজ্য তোলপাড়, সেই সময়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের জন্য ভাড়া নেওয়া কমপ্যাক্ট এসইউভির পিছনে মাসিক খরচ নিয়ে অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, গাড়িটির জন্য প্রতি মাসে ৬৫ হাজার টাকা ভাড়া গোনা হচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে। এ ছাড়া তেলের খরচ দেওয়া হচ্ছে পৃথক খাত থেকে। বিরোধীদের দাবি, পুরসভার আয়ব্যয়ের হিসেবে এমন উল্লেখ রয়েছে। 

পুরসভার নথি অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালে দু’টি গাড়ির জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে ১৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গাড়ি ভাড়া বাবদ পুরসভাকে দিতে হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। পুরসভা সূত্রের খবর, দু’টি গাড়ির একটি চেয়ারম্যানের জন্য বরাদ্দ, অন্যটি দফতরের কাজের জন্য। বিরোধীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের টাউন ব্লক সভাপতি মোহন বসু যে দুধ সাদা কমপ্যাক্ট এসইউভি গাড়িটি চড়েন, তার জন্য প্রতি মাসে ৬৫ হাজার টাকার কাছাকাছি ভাড়া দিতে হয়। অভিযোগ, চেয়ারম্যান তথা পুরসভায় ক্ষমতাসীন তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার তথা তৃণমূল নেতার থেকেই চেয়ারম্যানের জন্য পুরসভা গাড়ি ভাড়া করেছে। এই কমপ্যাক্ট এসইউভি-টিও তেমনই তৃণমূলের এক নেতার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া। বিরোধীদের দাবি, ৬৫ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়া হলে গাড়ির দাম উঠে গিয়েছে বহু দিনই। গত ৫ বছরে তার দ্বিগুণ পেয়ে গিয়েছেন গাড়ির মালিক। 

পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু বলেন, “এ সব অভিযোগের উত্তর দেওয়া অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয়। সরকারি নিয়ম মেনেই পুরসভা গাড়ি ভাড়া নিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দর মেনেই সব ঠিক হয়েছে। পুরসভা গাড়ি ভাড়া চেয়েছে, তার ভিত্তিতে আগ্রহী কেউ গাড়ি দিয়েছেন। তিনি কোন দলের, সেটা কথা নয়।”

জলপাইগুড়ির তৃণমূল নেতা এবং জনপ্রতিনিধিরা কী গাড়ি ব্যবহার করেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। এর মধ্যে ফেসবুকীয় চর্চায় জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দুলাল দেবনাথের এসইউভি গাড়ির প্রসঙ্গ উঠেছে। এসেছে অন্যদের গাড়ির কথাও। কংগ্রেস কাউন্সিলর তথা পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান পিনাকী সেনগুপ্ত বলেন, “পুরসভার হিসেবে গাড়ি ভাড়া বাবদ খরচ দেখে আগেও কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম। জনগণের টাকায় এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন! সব জনসমক্ষে তুলে ধরব।” বিজেপির জেলা সম্পাদক বাপি গোস্বামীর কটাক্ষ, “তৃণমূল পুরসভা সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। তৃণমূলের এক নেতা গাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন, আর এক নেতা চড়ছেন।”