জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে ফের চোরাশিকারির হাতে খুন হল একটি পূর্ণবয়স্ক গন্ডার। বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় জলদাপাড়া উত্তর রেঞ্জের ৫০ ফুট বিটের জঙ্গল থেকে ওই স্ত্রী গন্ডারটির দেহ উদ্ধার করে বন দফতরের কর্মীরা। গন্ডারটিকে গুলি করে হত্যা করার পর চোরাশিকারীদের দলটি তার খড়্গ কেটে নিয়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন বন দফতরের আধিকারিকেরা। ইতিমধ্যেই বন দফতরের পাশাপাশি পুলিশও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে দ্রুত ঘটনার কিনারা না হলে সিআইডি-র হাতেও তদন্তভার তুলে দেওয়া হতে পারে বলে বন দফতর সূত্রের খবর। বনমন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘‘জলদাপাড়া বা গরুমারাতে চোরাশিকারিদের হাতে গন্ডার খুনের ঘটনা অনেকটাই কমানো গিয়েছে। আমাদের আশা খুব শীঘ্রই গোটা ঘটনার কিনারা করতে পারব।’’

২০১৫ সালের গন্ডার সুমারিতে জলদাপাড়াতে ২০৭টি গন্ডারের সন্ধান মেলে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ফের জলদাপাড়ায় গন্ডার সুমারি হয়। মে মাসে প্রকাশ হওয়া সেই সুমারির রিপোর্টে জলদাপাড়ায় ২৪০টির বেশি গন্ডার থাকার কথা বলা হয়। যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন বনকর্তারা। কিন্তু পশুপ্রেমী বিভিন্ন সংগঠনের কর্তারা সেই সময়ই বলেছিলেন, জলদাপাড়ায় গন্ডারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চোরাশিকারিদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে বন দফতরকে। এ দিন চোরাশিকারিদের হাতে খুন হওয়া গন্ডারের দেহ উদ্ধারের পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল বলে মনে করছেন বনকর্তাদের অনেকে।

বন দফতর সূত্রের খবর, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে শেষবার জলদাপাড়ায় চোরাশিকারিদের হাতে গন্ডার খুনের ঘটনা ঘটেছিল। তার আগে ২০১৬ সালে দুটি ও ২০১৫ সালে আরও একটি গন্ডার চোরাশিকারিদের হাতে খুন হয়। বন দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেলে ৫০ ফুটের জঙ্গলে পরপর দুটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তারপরই ওই জঙ্গল এলাকায় তল্লাশিতে নামেন বনকর্মীরা। সন্ধে পর্যন্ত চলে তল্লাশি। কিন্তু সেই তল্লাশিতে কিছুই পাননি বনকর্মীরা। সূত্রের খবর, এ দিন ভোর থেকে ফের তল্লাশি শুরুর পাশাপাশি আশপাশের লজ ও হোটেলে তল্লাশিও চলে। কিন্তু এরইমধ্যে খড়্গহীন গন্ডারের দেহটি জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখেন বনকর্মীরা। খড়্গের কাটা জায়গায় রক্তের চিহ্ন দেখে তাদের অনুমান, বুধবার বিকেলের গুলিতেই গন্ডারটির মৃত্যু হয়েছে। জলদাপাড়ার ডিএফও কুমার বিমল জানিয়েছেন, গন্ডারটির মাথায় ও শরীরের একদিকে দুটি গুলির ক্ষত পাওয়া গিয়েছে।

এই ঘটনায় ফের একবার জলদাপাড়ায় বসবাস করা গন্ডারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেইসঙ্গে চোরাশিকারির হাত থেকে গন্ডারদের রক্ষা নিয়ে বন দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল। পরিবেশকর্মী অনিমেষ বসুর অভিযোগ, ‘‘এ দিনের ঘটনা থেকেই ফের একবার প্রমাণিত হল পেশাদার একটা চোরাশিকারির দল এখানে কতটা সক্রিয়। অথচ, জঙ্গল পাহারার জন্য সেভাবে বনকর্মী নিয়োগ হচ্ছেনা। ফলে জঙ্গল এলাকা চোরাশিকারীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। একশৃঙ্গ গন্ডারকে রক্ষা করতে তাই আরও সতর্ক হতে হবে।’’

রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) রবিকান্ত সিংহ বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমরা বেশ কিছু সূত্র পেয়েছি। সেই সূত্রে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। এই চক্রে ভিন রাজ্যের চোরাশিকারিরা থাকতে পারে।’’ জঙ্গল পাহারায় দ্রুত কর্মী নিয়োগ করা হবে বলেও এ দিন জানান বনমন্ত্রী।