গত কয়েক বছর ধরেই পুজোর আনন্দে বাধ সাধছে বৃষ্টি। ফলে দু’দিন ধরে মেঘলা আবহওয়া পুজো উদ্যোক্তা থেকে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তার উপরে তিতলির হানা। পুজোর দিনে বৃষ্টি হলে মণ্ডপ রক্ষা করবেন কী করে সেটাই এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর ভারী বৃষ্টি হলে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। শুক্রবারও নিম্নচাপের জেরে মালদহ, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর দিনাজপুরে ১০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আকাশের মুখ যে ভাবে ভার হয়ে রয়েছে তাতে উদ্বেগে ব্যবসায়ীরাও। আগামী কয়েক দিন মেঘলা আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

বালুরঘাট শহরের বিগ বাজেটের পুজো মণ্ডপগুলোয় শনিবার থেকেই উদ্বোধনের তোড়জোড় শুরু হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় উদ্বোধন পিছিয়ে ষষ্ঠীর দিন করছেন অনেকে। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, আগামী দু’দিন নিম্নচাপের প্রভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত দু’দিনের বৃষ্টিতে মালদহে কোনও মণ্ডপে জমে রয়েছে জল, আবার কোথাও কাদা থিকথিক করছে। ফলে পুজোর প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে মাথায় হাত পড়েছে সেখানকার পুজো উদ্যোক্তাদের। শুক্রবার দুপুরের পর লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে জেলায়। সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বামনগোলা ব্লকে। প্রায় ৬৮ মিলিমিটার।

২০১৬ সালে ষষ্ঠীর রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে ইসলামপুর অনেক এলাকাই। নবমীতেও ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে আটকে পড়েন অনেকে। ইসলামপুরের পুজো সমন্বয় কমিটির সম্পাদক কৌশিক গুন বলেন, ‘‘শেষ মুহূর্তে বৃষ্টি হলে সমস্যা বেশি হয়।’’ রায়গঞ্জে শাস্ত্রী সঙ্ঘ পুজো কমিটির সম্পাদক মনোজ প্রসাদ এবং অমর সুব্রত ক্লাবের সভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়রা বলেন, ‘‘মণ্ডপের কাজ শেষ পর্বে এসেছে। এখন বৃষ্টি হলে সমস্যা হবে। বৃষ্টির আশঙ্কায় মণ্ডপের বাইরের কাজ সম্পন্ন করতে দেরি হচ্ছে। ঠাকুরের উপরে ত্রিপল ভাল ভাবে খাটানোর বন্দোবস্ত করতে হচ্ছে।’’

ইংরেজবাজার শহরের ঝঙ্কার ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক ভাস্কর রায় বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে পুজোর সময় বৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ বারে বাজেটের কাটছাঁট করে স্থায়ী ভাবে টিনের শেড তৈরি করা হয়েছে।” মণ্ডপ শিল্পী বলরাম ভট্টাচার্য বলেন, “বৃষ্টির জন্য মণ্ডপ ঢেকে রাখতে হয়েছে। এখনও বহু কাজ বাকি রয়েছে। এমন চলতে থাকলে সময়ে মণ্ডপ প্রস্তুত করতে সমস্যায়

পড়তে হবে।”

পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত সোম বলেন, ‘‘পোশাক-সহ সব ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুজোর সময় অন্য ব্যবসাও জমে।’’ রায়গঞ্জে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী, বিপ্লব পাল, রঞ্জন ঘোষরা জানান, বৃষ্টি এবং মেঘলা আবহাওয়ায় পরপর দুই দিন ব্যবসা মার খাচ্ছে। পুজোয় এমন আবহাওয়া থাকলে বাকি দিনগুলিতেও কেনাকাটা মার খাবে। এ দিকে, দু’দিনের বৃষ্টিতে ব্যবসা মার খেয়েছে বলে জানিয়েছেন মালদহের কাপড় ব্যবসায়ী দেবাশিস কুণ্ডু, বালুরঘাটের রেডিমেড জামা কাপড়ের ব্যবসায়ী পবন সাহা, চন্দন বণিকরা বলেন, “শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা চলে। একেবারে বিক্রি কমে গিয়েছে।” চাঁচলের বস্ত্র ব্যবসায়ী উৎপল দাস, ডালখোলা ব্যবসায়ী  উত্তম  সাহারাও রয়েছেন চিন্তায়।