খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখে আচমকা শিলিগুড়ি পুরসভার ‘বঞ্চনার’ প্রসঙ্গ! তাও ভরা জনসমাবেশে। শুক্রবার বিকেলে ময়নাগুড়ির চূড়াভাণ্ডারে দলীয় সভায় রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলার সময়ে বলেন, ‘‘এই যে শিলিগুড়ি পুরসভা। তাদের সঙ্গে কী হচ্ছে সেটা সকলেই জানেন।’’ যা শোনার পরে তৃণমূল তো বটেই, সিপিএমের অন্দরেও শোরগোল পড়ে যায়। কারণ, শিলিগুড়ি পুরসভা বামেদের দখলে রয়েছে। মোদীর বক্তব্য নিয়ে শোরগোলও পড়ে যায়।

যদিও শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র তথা সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শিলিগুড়ি পুরসভাকে রাজ্য যে বঞ্চিত করছে, সেই অভিযোগ অনেকবারই করেছি। তাই প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা পুরোপুরি ঠিক। এর বেশি কী বলব!’’ কিন্তু, এত পুরসভা থাকতে শিলিগুড়ি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন কেন? বিজেপির সঙ্গে কী যোগাযোগ রেখে চলছেন মেয়র? জবাবে মেয়র বলেন, ‘‘বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্রবের কোনও প্রশ্ন নেই। তবে মেয়র হিসেবে অনেক সময়েই দিল্লিতে গিয়ে নগরোন্নয়ন দফতরে বরাদ্দ চেয়েছি। কখনও দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদের কাছেও জানানো হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনও মানে খোঁজা অর্থহীন।’’

প্রধানমন্ত্রীর মুখে শিলিগুড়ি পুরসভার প্রসঙ্গ ওঠায় অবাক নন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি তথা পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, ‘‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। তাই প্রধানমন্ত্রী হয়েও পুরসভার অভিযোগের যৌক্তিকতা খতিয়ে না দেখে যা খুশি বলে দেন। রাজ্য সরকার শিলিগুড়ি পুর এলাকায় গত কয়েক বছরে ৭০০ কোটি টাকার কাজ করিয়েছে। এ সব ওঁর অফিসারদের দিয়ে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। আসলে হোমওয়ার্ক না করেই বক্তৃতা দিয়েছেন সেটা স্পষ্ট।’’

তবে বিজেপির দার্জিলিং জেলা সভাপতি অভিজিৎ রায়চৌধুরী মনে করেন, যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করেই প্রধানমন্ত্রী শিলিগুড়ি পুরসভার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তাঁর দাবি, ‘‘তৃণমূলের আমলে বিরোধীদের দখলে থাকা পুরসভা, পঞ্চায়েত জবরদখলের চেষ্টা হচ্ছে। বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না বলে ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শিলিগুড়ি পুরসভার হাল-হকিকত জেনেই সব বলেছেন।’’