আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য এমস বা সমমানের একটি হাসপাতালের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের কাছে দরবার করলেন রাজ্যের বিজেপি সাংসদেরা। আগামী সপ্তাহে বাজেট। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দাবিদাওয়া জানতে তাই চলতি সপ্তাহে রাজ্যের বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন নির্মলা। সেখানে রায়গঞ্জে এমস বা সমমানের উন্নত একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য অনুরোধ জানান উত্তরবঙ্গের সাংসদেরা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আশ্বাস
দেন নির্মলা।

রায়গঞ্জে ফের এমসের দাবি প্রসঙ্গে আজ কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে কোনও উন্নতমানের হাসপাতাল নেই। সে কারণে ওই এলাকায় এমস বা সমমানের উন্নত পরিষেবাযুক্ত একটি হাসপাতালের জন্য দাবি জানানো হয়েছে। এটি রায়গঞ্জ তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।’’ বৈঠকের পরে দেবশ্রী আরও বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে চিকিৎসা পরিষেবার সমস্ত পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি আধুনিক হাসপাতাল দরকার। আমি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সেই সমস্যার কথা জানিয়েছি।’’ তিনি জানিয়েছেন, পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও এই ব্যাপারে কথা বলবেন।

প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে ওই রায়গঞ্জেই এমস তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন মনমোহন সরকার। কিন্তু ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে ক্ষমতায় এসে সেই হাসপাতাল রায়গঞ্জ থেকে সরিয়ে কল্যাণীতে করার সিদ্ধান্ত নেন। যার নির্মাণ কাজ বর্তমানে চালু রয়েছে। এর পরেও রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ দীপা দাশমুন্সি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তদ্বির করেছিলেন। এ বারের লোকসভা ভোটেও এমস প্রসঙ্গ উঠেছে। তবে রাজ্যে একটি এমস ধাঁচের হাসপাতাল তৈরির ছাড়পত্র এসে যাওয়ায় আর একটি একই হাসপাতাল করা আদৌ সম্ভব কিনা, তাই নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই কেন্দ্র থেকে জয়ের পরে দেবশ্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, এমস না হলেও যাতে উন্নতমানের একটি হাসপাতাল এখানে তৈরি করা সম্ভব হয়, সেটা তিনি দেখবেন।

এই নিয়ে তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব অবশ্য পাল্টা কটাক্ষ করেছেন। উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘‘অতীতে কংগ্রেস ও সিপিএম রায়গঞ্জের বাসিন্দাদের এমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরির মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে বিভিন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উত্তরবঙ্গে সার্বিক উন্নয়ন করার ব্যাপারে কোনও পরিকল্পনা নেই। সেই কারণে, বাসিন্দারা যাতে ন্যূনতম উন্নয়নের দাবি তুলতে না পারেন, তাই ফের এমসের কথা বলে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।’’

জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পবিত্র চন্দের বক্তব্য, ‘‘রাজ্যের তৃণমূল সরকার জমি অধিগ্রহণ না করায় কেন্দ্রের তৎতকালীন ইউপিএ সরকার রায়গঞ্জে এমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরি করতে পারেনি। আমরা এখনও চাই রায়গঞ্জে ওই হাসপাতাল হোক।’’