• পার্থ চক্রবর্তী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নথি সংশোধনে এক বছর পরে ডাকবে ডাকঘর

aadhaar card
প্রতীকী চিত্র।

২০২০ সালে আধার কার্ড সংশোধন করতে লাইনে দাঁড়িয়ে তারিখ মিলল ২০২১ সালের। শুক্রবার এমনই ঘটনা ঘটল আলিপুরদুয়ার মুখ্য ডাকঘরে। ডাকঘর সূত্রের খবর, একজন-দু’জন নন, এ দিন নাম নথিভুক্ত করতে ডাকঘরে লাইনে দাঁড়ানো অনেককেই আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধনের জন্য এক বছর পর জানুয়ারি মাসের তারিখ দেওয়া হয়েছে। ডাকঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধনের জন্য এ দিন যে লম্বা লাইন পড়েছিল, তাতে করে তাদের পর পর তারিখ দিতে দিতে ২০২১ সাল পর্যন্ত চলে যায়।

সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার মুখ্য ডাকঘর ও শহরের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে অনেক দিন থেকেই নতুন আধার কার্ড তৈরি ও সংশোধনের কাজ চলছে। যে জন্য আগে নাম নথিভুক্ত বাধ্যতামূলক। তারপর তালিকা অনুযায়ী তাদের পরপর তারিখ দেওয়া হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার মুখ্য ডাকঘর সূত্রর খবর, এর আগে এই ডাকঘরে শেষবার নভেম্বর মাস পর্যন্ত নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই সময় যাদের নাম নথিভুক্ত হয়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরপর তাদের নতুন কার্ড তৈরি বা সংশোধনের কাজ করা হয়। এরপর শুক্রবার ফের নাম নথিভুক্ত করার দিন ধার্য করেন ডাকঘর কর্তৃপক্ষ। ডাকঘরেই নোটিস দিয়ে যা সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্রের খবর, রোজকার মতো এ দিনও বেলা দশটায় আলিপুরদুয়ার ডাকঘর খোলে। কিন্তু তার অনেক আগে কেউ ভোর চারটেয়, তো কেউ ভোর পাঁচটায় নতুন কার্ড তৈরি বা কার্ড সংশোধনের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। বেলা যত গড়ায় সাধারণ মানুষের লাইন বাড়তে থাকে। কোন রাখঢাক না করে খোদ ডাকঘরেরই এক কর্মী বলে ফেললেন, ‘‘নতুন নাগরিকত্ব আইন তৈরির হওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবার আমাদের ডাকঘরে আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধনের জন্য নাম নথিভুক্তের দিন নির্দিষ্ট ছিল। আর তাতে যা লাইন পড়ল, তা থেকেই পরিষ্কার নতুন আইন বা এনআরসি নিয়ে মানুষ করতটা আতঙ্কে রয়েছেন।’’

ওই কর্মীর কথা যে ভুল নয়, তা আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের সায়রা বিবির কথাতেই স্পষ্ট। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মেয়ের আধার কার্ড নেই। সবাই বলছেন, এনআরসি হলে সমস্যা হবে। সে জন্য এদিন সংসারের সব কাজ ফেল লাইনে দাঁড়িয়েছি। যতক্ষণই লাগুক না কেন, নাম নথিভুক্ত করে তারপর যাব।’’ শেষ পর্যন্ত নিজের নাম নথিভুক্ত করতে ডাকঘরের কাউন্টারে পৌঁছতে ওই গৃহবধূর লেগে যায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময়

আলিপুরদুয়ার মুখ্য ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জয়ন্ত বসুমাতা বলেন, ‘‘এমন ভিড় কখনও দেখিনি। সারা দিনে চার হাজার নাম নথিবুক্ত হয়েছে।’’ ভিড় দেখে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানান। আলিপুরদুয়ার থানা থেকে তিন সিভিক ভলান্টিয়ার গিয়ে ভিড় সামাল দেন। এক দিনে ১৫-২০টির বেশি আধার কার্ড তৈরি বা সংশোধন করা যায়না। সেই হিসাবেই এদিন সবাইকে পর পর তারিখ দেওয়া হয়েছে। ডাক ঘর সূত্রের খবর, দুপুরের মধ্যেই সেই তারিখ জুলাই মাসে পৌঁছে যায়। 

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ যখন নাম নথিভুক্তের লাইন শেষ হল? পোস্ট মাস্টার বললেন, ‘‘শেষ যাঁর নাম নথিভুক্ত হয়েছে তাঁকে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি আসতে বলা হয়েছে।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন