প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের রাশ আলগা হতেই শহরের বড় রাস্তায় ক্রমশ টোটোর সংখ্যা বৃদ্ধির জেরে বালুরঘাটে আবারও নিত্য যানজট শুরু হয়েছে। বিশেষত শহরের বিশ্বাসপাড়া মোড় থেকে সাড়ে তিন নম্বর মোড় হয়ে ডানলপ মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় সকাল ও বিকেলে ঠ্যালা, সাইকেল রিকশার পাশাপাশি টোটোর দাপটে যানজটে শহরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে।

গত বছর জুন মাসে শহরের মূল বড় রাস্তায় টোটো চলাচলের উপর বিধিনিষেধ জারি করে জেলা প্রশাসন। পুলিশের তরফে ধরপাকড়ও শুরু হয়েছিল। টোটো চালকদের পক্ষ নিয়ে জেলা কংগ্রেস, পুরসভা কর্তৃপক্ষকে তালিকা নথিভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এর পরই পুরসভা থেকে টোটো চালকদের লাইসেন্স দিয়ে পুরসভায় তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও টোটো নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পুরসভা থেকে পদক্ষেপের অভাবে দিন দিন টোটোর সংখ্যা বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরসভা সূত্রের খবর, গত বছর পুরসভা প্রথমে ২৩৮টি টোটোকে লাইসেন্স দিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে আরও ১৭১টি টোটোকে লাইসেন্স দিচ্ছে। মোট ৪০৯টি টোটো ইতিমধ্যে অনুমোদন পেলেও অননুমোদিত আরও ১০০টি টোটো শহরে চলছে বলে অভিযোগ। তার উপর শহরের ডানলপ মোড় থেকে সাড়ে তিন নম্বর মোড় পর্যন্ত রাস্তার ধারে দোকানের মালপত্র, মোটর সাইকেল পার্কিংয়ের জেরে পথচারীদের রাস্তা চলাই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই আছে।

বিষয়টি নিয়ে সিটুর রিকশা ও ঠ্যালা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ব্যাপক হারে টোটো চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তুমুল প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সিটুর অভিযোগ, ২০০ থেকে বর্তমানে টোটোর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া বেকার যুবকদের আড়ালে চাকরিজীবীরাও টোটো কিনে ভাড়া খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে পুরসভার পক্ষ থেকে তদন্ত করে ওই সমস্ত টোটোর লাইসেন্স বাতিলের দাবি তোলা হয়েছে।

বালুরঘাটের মহকুমাশাসক সন্দীপ দত্তের বক্তব্য, ‘‘প্রশাসনের তরফে প্রথম দিকে টোটো নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখন বিষয়টি পুরসভা দেখছে। তাদের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেন শীল অবশ্য বলেন, ‘‘শহরে এখনও পর্যন্ত ৪০৯টি টোটোকে লাইসেন্স দিয়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে শহরে আর কোনও টোটো রিকশা অবৈধ ভাবে চললে প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে ওই যানের দাপটে বালুরঘাটের মতো ছোট শহরে পথচলতি বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষত স্কুল ও অফিস সময়ে শহরের প্রধান রাস্তায় যানজটে নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা।’’

বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের বদলে রাস্তা দখল করে রিকশা পার্কিং করে থাকলেও পুরকর্তৃপক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তার উপর শহরের রাস্তায় ব্যাপক হারে টোটো নেমে পড়েছে। টোটোর কোনও নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাও করা হয়নি। তীব্র সমস্যা তৈরি হলেও কোনও তরফে হেলদোল দেখা যাচ্ছেনা বলে শহরের অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন।