রাজ্যে ঘুরতে আসা দেশ বিদেশের পর্যটকদের সাহায্যের জন্য ‘অতিথি বন্ধু’ নাম দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে চলেছে পর্যটন দফতর। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিলিগুড়ির দফতরে বসে এই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। আজ, কলকাতায় বিষয়টি নিয়ে দফতরের অফিসারদের সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে মন্ত্রীর। দফতর সূত্রের খবর, পর্যটকেরা কোনও কেন্দ্রে পৌঁছলে তাঁদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, ঘোরা-বেড়ানো— সব বিষয়ে সাহায্যের জন্য থাকবেন ‘অতিথি বন্ধু’। এর আগে ‘টুরিস্ট পুলিশ’ তৈরির চিন্তাভাবনা করেছিল সরকার। কিন্তু পরে ভাবনা একটু বদলানো হয়। ঠিক হয়, সরাসরি পুলিশকে যুক্ত না করে সিভিক ভলেন্টিয়রদের ধাঁচে ‘অতিথি বন্ধু’ নিয়োগ করা হবে। এখন জলপাইগুডির ডুয়ার্সে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে পুলিশের একটি দল কাজও করে।

মন্ত্রী গৌতমবাবু বলেন, ‘‘অতিথি বন্ধুদের নিয়োগের প্রক্রিয়া, কাজের পরিধি, পোশাক, বেতন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলা হবে।’’ তিনি জানান, প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন, বিমানবন্দরে কী ভাবে এই স্বেচ্ছাসেবকদের রাখা যায়, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পর্যটন দফতরের অফিসারেরা জানান, একটা বড় অংশ আগাম ঘর বা গাড়ি বুকিং না করেই ঘুরতে আসেন। তাঁদের মধ্যে খুব কমই সরাসরি দফতরে এসে খোঁজখবর করেন। বদলে তাঁরা গিয়ে পড়েন দালালদের খপ্পরে। এবং কখনও বেশি টাকায় নিচু মানের হোটেলে উঠতে হয়, কখনও আরও অপ্রীতিকর কোনও ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। এই অবস্থায় যাতে না পড়তে হয়, সেটাই দেখবেন ‘অতিথি বন্ধু’রা। তাঁরাই পর্যটকদের দেবেন সঠিক হোটেল, রিসর্টের সুলুক সন্ধান। সোজা কথায়, পর্যটন কেন্দ্রে পাশে দাঁড়াবেন পর্যটকের।

গত ৬ মার্চ রাজ্য বিধানসভায় ৪২৬ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার পর্যটন বাজেট পাশ হয়েছে। আগামী এক বছর এই টাকায় চলতে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ছাড়াও শুরু হবে নতুন প্রকল্পের কাজ। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০১১ সালে পর্যটন বাজেট ছিল ৪০ কোটি টাকা। ৭ বছরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তা ১০০ গুণ বেড়েছে। দুর্গাপুরে সরকারি হোটেল ম্যানেজমেন্ট, গজলডোবায় আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্ট কলেজ ছাড়াও সবুজদ্বীপ, পুরুলিয়া, ঝালং, চালসায় নতুন পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে। এ বছরেই তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, মায়াপুরকে ঘিরে ধর্মীয় সার্কিট চালু করা হবে।

দফতরের অফিসারেরা জানান, রাজ্যের ৬৭টি পথসাথী পর্যটন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এখন জেলায় জেলায় তা বিভিন্ন দফতর বা বোর্ড চালাবে। তেমনিই, ফুলবাড়ি সীমান্তের রিট্রিট সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ একর জমি কী ভাবে কেনা হবে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজগঞ্জে দেবী চৌধুরাণীর মন্দির আগুনে ছাই হয়ে যায়। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাস্করদের সম্পর্কে খোঁজখবর করছি। একদম পুরানো ধাঁচে মন্দির, মূর্তি তৈরি করা হবে।’’

এ দিন রাজ্যের গঙ্গাবক্ষ এবং তিস্তা ক্যানেলে কেরলের ধাঁচে হাউসবোট নামানোর কথা বলেন গৌতমবাবু। তিনি জানান, ৮ কোটি টাকা দিয়ে আটটি হাউসবোট তৈরি হচ্ছে। দুটি তৈরি শেষ হয়েছে।