প্রবল বর্ষায় অগস্টের শুরুতে পাগলাঝোড়ায় ধস নেমে বন্ধ হয়েছিল টয় ট্রেন ও বাস পরিষেবা। প্রায় সারা মাস ধরে একটু করে পাথর সরানোর কাজ শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন ও দার্জিংলিং হিমালয়ান রেল। বৃহস্পতিবার ফের নতুন করে ধস নামায় আবার ক্ষতি হল টয় ট্রেনের লাইন ও শিলিগুড়ি-দার্জিলিং ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাস্তা থেকে পড়ে থাকা বোল্ডার সরানো হয়েছে। রেলের তরফে জানান হয়েছে, ধস থামলে শুরু হবে লাইন মেরামতির কাজ। এ দিন  রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ জাতীয় সড়ক খুলে দেওয়া হয়। জেলাশাসক জয়সী দাসগুপ্ত বলেন, ‘‘আগের বার পাগলাঝোড়ায় ধস নেমেছিল। এ বারও সেখানেই ধসে পড়েছে কিছু বোল্ডার। সেগুলি সারিয়ে রাস্তা খোলা হয়েছে।’’ এ দিনই কয়েক ঘণ্টায় ফেলে প্রশাসন। গত সপ্তাহে বৃষ্টি একটু কমতেই রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু করেছিল পূর্ত দফতর। সেখানে রেলিং দিয়ে ধস আটকানোর পরিকল্পনা তখনই করা হয়েছিল।

বর্ষার সময় একটু একটু করে বৃষ্টি হওয়ায় ওই এলাকায় ধস নামছে। আবার থেমেও যাচ্ছে। তার জেরে রেলিং বসানোর কাজ করা যাচ্ছে না। আবহাওয়া আরও কিছুটা পরিষ্কার হলে তবে রেলিং বসানোর কাজ শুরু করতে পারবে পূর্ত দফতর। বর্ষা বিদায় না নিলে এখন ওই এলাকায় রেল লাইন সারানো বা পাহাড়ের গায়ে রেলিং বসানোর কাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে পূর্ত দফতরের। এখন কর্মীরা কাজ করতে গেলেই যে কোনও সময় আলগা পাথর নেমে বিপদ হতে পারে বলে জানান হয়েছে।

রেল লাইনের ক্ষতি হওয়া অংশ সারাতে গেলেও বর্ষা এবং ধস থামার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এ দিকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চালাতে নারাজ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের কর্তারাও। তিনধারিয়া, পাগলাঝোড়া, গয়াবাড়ির মতো এলাকাগুলিতে বেশ কয়েকবার ধস নেমে টয় ট্রেনেক লাইনের ক্ষতি হওয়ায় বর্ষার সময়ে বারবার মার খেয়েছে রেল পরিষেবা। এ অবস্থায় একদিতে এনজেপি থেকে রংটং পর্যন্ত টয় ট্রেন চালানো হচ্ছে ওদিকে কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে টয় ট্রেন পরিষেবা।