• রাজু সাহা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অভাবের সংসারে ঘর গড়ে সমাজসেবা ভ্যান চালকের

Blood Donation
——প্রতীকী ছবি।

পেশায় ভ্যান চালক। প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরোননি। দৈন্যের সঙ্গে দিনযাপন। প্রবল দৈন্যের মাঝেও মানুষের জন্য, সমাজের জন্য কাজ করা তাঁর নেশা। কোনও বাধাই যে তাঁর এই নেশার কাছে বাধা নয় সেটাই প্রমাণ করে দেখালেন কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়ির সুপারমার্কেট এলাকার শ্যামাপ্রসাদ দত্তরায়। নিজের কষ্টার্জিত টাকায় গড়ে তোলা ঘরের গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে এক নজির গড়লেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদবাবুর এই উদ্যোগে তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের থেকেও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের কর্তারা।

রক্তদান শিবির উপলক্ষে এ দিন তাঁর এই উদ্যোগে সামিল হন আলিপুরদুয়ার মানবিক মুখের সম্পাদক রাতুল বিশ্বাস, ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশনের সম্পাদক রাজা বৈদ্য, কামাখ্যাগুড়ি সোশ্যাল ওয়েলফেয়াড় অর্গানাইজেশনের সম্পাদক অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা মজিদখানা হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মদনকুমার মোচারি সহ বহু বিশিষ্ট জনেরা।

কোচবিহার সেন্ট জোন্স ব্লাড ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় এ দিনের শিবিরে দু’জন মহিলা সহ মোট ২১ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। শুধু এই রক্তদান শিবির ছাড়াও পথ চলতে কোনও অসহায় মানুষ দেখলেই  শ্যামাপ্রসাদবাবু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এমন অনেক কাজের  উদাহরণ জানা গেল বাসিন্দাদের মুখ থেকে। সম্প্রতি মরণোত্তর দেহদানেরও অঙ্গীকার করেছেন তিনি। গত ৭ জুন পদ্মশ্রী করিমুল হককে কামাখ্যাগুড়িতে নিজের বাড়িতে এনে করিমুল হকের জন্মদিন পালন করে শ্যামাপ্রসাদবাবু।

এ বার গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করায় খুশি করিমুল হক নিজেও। করিমুল বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদবাবুর এই উদ্যোগ ভাবা যায় না। গত ৭ জুন আমাকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে নিজের পয়সা খরচ করে ধুমধাম করে আমার জন্মদিন পালন করেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদবাবু ভ্যান চালক হয়েও বাড়িতে রক্তদান শিবির করে যে নজির গড়লেন সেটা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।’’ আলিপুরদুয়ার মানবিক মুখের সম্পাদক রাতুল বিশ্বাস বলেন, ‘‘যিনি বহু কষ্টে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি নিজের বাড়িতে গৃহপ্রবেশ উপলক্ষে রক্তদান শিবির করেছেন এটা  সত্যি নজির হয়ে থাকল।’’

তিনি আমাদের মতো সমাজকর্মীদের অনুপ্রেরণা। ৫৩ বছর বয়সী শ্যামাপ্রসাদ দত্তরায় জানান, ‘‘সবার সহযোগিতায় এই শিবিরের আয়োজন করতে পেরেছি। শুধু গৃহপ্রবেশই নয়, প্রতিটি অনুষ্ঠানেই রক্তদান শিবির করা হোক—এই বার্তাই আমি সকলের কাছে পৌঁছতে চাই। তা হলে কোনও মুমূর্ষ রোগীকে রক্তের জন্য হাহাকার করতে হবে না। আনুমানিক ১৮-২০ বছর আগে আমি শুনতে পাই রক্তের অভাবে একটি শিশুর সঙ্কটজনক অবস্থা। বহু চেষ্টা করেও ওই শিশুর পরিবারের লোকেরা রক্ত চেয়ে পাননি। এই ঘটনা আমার মনকে ভীষণ ভাবে নাড়া দেয়। এর পর থেকেই আমি রক্তদান শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হই।’’

এর আগে বিয়ে বাড়িতে ৩টি রক্তদান শিবির করেছি। আগামীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেব বলে তিনি জানান।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন