নদীর ধারে সরকারি জমি দখল নিয়ে শিলিগুড়িতে প্রকাশ্যে এল মন্ত্রী-মেয়রের তরজা। রবিবার সকালে শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ডেঙ্গি নিয়ে প্রচারে নামে তৃণমূলের যুব সংগঠন। এলাকার নর্দমাগুলোয় ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মন্ত্রী গৌতম দেব। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘পুরসভার মদতে দিনের পর দিন শহরের মহানন্দা নদীর চর দখল হয়েছে। জমি দখল করে খাটাল ও বসতবাড়ি তৈরি হয়েছে। মেয়র অশোক ভট্টাচার্য এই দায় এড়াতে পারেন না।’’

যা শোনার পরে পাল্টা অভিযোগ করেছেন মেয়রও। তিনি বলেছেন, ‘‘জমি কারবারি থেকে মাফিয়া সব তো তৃণমূলে। আর ওদের নেতা গৌতমবাবু। গত বছর মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়িতে এসে বৈঠকে জমির কারবারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরে চম্পাসারি থেকে বাইপাস কারা গ্রেফতার হন! সবই তো তৃণমূল। তাই মন্ত্রীর মুখে বড় বড় কথা মানায় না।’’

পুরসভায় বিরোধী তৃণমূলের দাবি, শহরের বিভিন্ন নদীর ধারে বস্তি ও খাটাল বাম আমলে বসানো হয়েছে। তখন থেকেই অশোকবাবুরা কোনও ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ। ভোটের রাজনীতির স্বার্থে বামেরা নদীর ধারে জমি দখল করে বসতি গড়তে দিয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। বামেদের পাল্টা প্রশ্ন, আট বছর ধরে রাজ্যে সরকারে থাকলেও বেআইনি জমি দখলে তৃণমূল কেন ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের দাবি, মহানন্দার চরে বহু জায়গায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতারাই বস্তি, কলোনির দখল নিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও নদীর চর দখল নিয়ে এখনও কোনও ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দফতর, আদিবাসীদের জমি বা খাসজমি দখলের বিরুদ্ধে কিছু কিছু ব্যবস্থা হয়েছে।

গৌতমের অভিযোগ, অশোক প্রায় তিন দশক ধরে রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন, এসজেডিএ-র চেয়ারম্যানও ছিলেন। এখন মেয়র ও বিধায়ক হয়েছেন। তারপরেও শহরে সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবা নেই। তাঁর দাবি, ডেঙ্গি নিয়ে পুরসভা ব্যর্থ। বাইপাসের রাস্তা, একাধিক সেতু রাজ্য সরকারই তৈরি করছে। তাহলে এই পুরসভা কী কাজ করছে বলে প্রশ্ন তাঁর।

যদিও অশোকবাবুর দাবি, ‘‘রাজ্য সরকার তো উন্নয়নের কাজ করবেই। বাম আমলেও তা হয়েছে। ওরা আসলে পুরসভাকে টাকা দেয় না। যৌথভাবেও কোনও কাজ করতে চায় না।’’