মাধ্যমিকের রেজাল্ট ঘোষণা হবে। ছেলে পরীক্ষার্থী, পরীক্ষাও ভাল হয়েছে। দুরু দুরু বুকে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছেন বাবা-মা। প্রথম, দ্বিতীয়, এগোচ্ছে তালিকা। সম্ভাব্য অষ্টম হিসেবে সায়ন্তন বসাকের নাম ঘোষণা হতেই যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না বাবা বৃন্দাবন বসাক ও মা শীলা বসাকের। 

বৃন্দাবনের তাঁতের কাপড়ের ব্যবসা লোকসানে চলছে। পরিবারের হাল ধরতে বাড়ির সামনে তিনি খুলেছেন খাতা, পেন্সিলের দোকান। সেই ঘরের ছেলে, গঙ্গারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সায়ন্তন মাধ্যমিকে ৬৮৩ নম্বর পেয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রথম ও রাজ্যের মধ্যে সম্ভাব্য অষ্টম স্থান দখল করেছে। ছেলের সাফল্যে খুশি গোটা পরিবার।

গঙ্গারামপুরের দত্তপাড়ায় বাড়ি সায়ন্তনের। বাবা বৃন্দাবনের কথায়, “প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। ছেলের এই রেজাল্টে গর্বিত। ছোট থেকেই সায়ন্তন পড়াশোনায় মনোযোগী তাই ভাল রেজাল্ট হবে জানতাম। তবে এতটা আশা করিনি।’’ একই দাবি সায়ন্তনেরও।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সায়ন্তন জানাল, সে দিনে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে। সাত জন গৃহশিক্ষকের পাশাপাশি সাহায্য করেছেন স্কুলের শিক্ষকরাও। সায়ন্তন বলে, “নির্দিষ্ট সময় মেনে পড়াশোনা করিনি। যখন ইচ্ছে হয়েছে পড়েছি। জীববিদ্যা ও অঙ্ক আমার খুব ভাল লাগত। ফল ভাল হবে জানতাম। কিন্তু এতটা সত্যিই ভাবিনি।’’ আর অবসর? সে জানাল, ফেসবুক, হোয়াটস অ‌্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমে সে নেই, তবে খুব ভালবাসে টিভি দেখতে আর গান শুনতে। সায়ন্তন বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯৫, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ১০০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৪, ইতিহাসে ৯৭ ও ভূগোলে ৯৯ পেয়েছে। তার স্বপ্ন, ‘‘বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চাই।’’ কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে কী ভাবে ডাক্তারি পড়বে—তা নিয়ে চিন্তায় পরিবার। যদিও বৃন্দাবন বলেন, ‘‘কষ্ট হলেও ছেলেকে ডাক্তারি পড়াব।’’

টিভি দেখার নেশা যে পরীক্ষার ফল প্রভাব ফেলেছে, ক্ষতি করে দিয়েছে অনেকটা— তা বুঝতে পারছে মাধ্যমিকে অষ্টম হওয়া সায়ন্তন। মাধ্যমিকের ফল জানার পরেই আক্ষেপের সুরে সায়ন্তন বলে, ‘‘টিভিটা একটু কম দেখলে হয়ত আরও ভাল রেজাল্ট হত। এখন সেই টিভি দেখার কথাই বারবার মনে পড়ছে।