ঘটনা ১: তিন বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে কোর্ট চত্বরের ঘুরছিলেন রাজগঞ্জের রহিমা খাতুন। কাউকে খুঁজছিলেন, জিজ্ঞাসা করতেই বলেন, ‘‘গত মঙ্গলবার চুরির মামলায় তাঁর স্বামীকে পুলিশ ধরেছে। আইনজীবী পাচ্ছি না। স্বামীকে আবার এ দিন আদালতে আনা হয়েছে। কিন্তু আইনজীবীরা নাকি কাজ করছেন না। কতদিন এমন চলবে কেউ বলতে পারছে না। ওকে যে মিথ্যা মামলায় ধরায় হয়েছে, সেটা কী করে জানাই।’’ 

ঘটনা ২: টানা ২৬ দিন জেলে থাকার পরে সঞ্জীবন রায়ের জামিন হওয়ার কথা। বিধাননগর থেকে পরিবারের সকলেই আদালতে এসেছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষে গ্রেফতার সঞ্জীবনের সঙ্গে বিরুদ্ধ পক্ষের ঝামেলা মিটেছে। আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতে বিষয়টি উঠলে জামিন হতে পারত। সঞ্জীবনের মামা প্রশান্ত মণ্ডল বললেন, ‘‘আইনজীবীরা তো কর্মবরিতে। আর আমার ভাগ্নে জেলে। রোজ আশা নিয়ে আসছি, আর ফিরে যাচ্ছি।’’

শুক্রবার বেলা ১টায় যখন ‘কালা দিবস’ পালন করছেন আইনজীবীরা তখন শিলিগুড়ি আদালতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশান্তবাবু বা রহিমা খাতুনের মতো অনেকেই হতাশ।  আইনজীবীদের কর্মবিরতির জেরে তাঁদের অনেকেরই আদালতে চক্কর খাওয়াটা রুটিনে পরিণত হয়েছে গিয়েছে। আদালত খোলা কিন্তু বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। বিচারপ্রার্থীরা বলছেন, ‘‘বিচারের জন্য এমন মাথায় হাত দিয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে, ভাবিনি। উকিলবাবুরা যে কত দিন এমন করবেন, কে জানে! কত মামলা জমে গেল!’’ যা শুনে আইনজীবীদের একাংশও পাল্টা বলছেন, ‘‘আরে আমরাও তো বিচারপ্রার্থী। আমরাও তো বিচার চাইছি। তা না পেয়ে আন্দোলনে আছি।’’

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

রাজ্যের অন্য প্রান্তের সঙ্গে শিলিগুড়ি আদালতের গত বেশ কয়েক দিন ধরে কর্মবিরতি চলছে। রোজ বিচার প্রার্থীরা এসে ঘুরে যাচ্ছেন। মামলার দিন পিছিয়ে যাচ্ছে, জামিনের আবেদন হচ্ছে না। আইনজীবীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে কোর্ট চত্বরে ঘুরে হাওড়ায় আইনজীবীদের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানান। আর এক দফায় দ্রুত অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল থেকে এই আন্দোলন চলছে।

আদালত সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি আদালতে প্রত্যেক দিন কয়েকশো মামলা জমা পড়ছে। বিচারপ্রার্থী এবং তাদের আত্মীয়দের নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার জামিনের আবেদন করতে না পারায় বামপন্থী সংগঠন এসএফআই-এর সাগর শর্মা এবং ডিওয়াইএফআই-এর আনারুল প্রামাণিক ৫৪ দিনের বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছে। তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তাঁদের ৮ মে আদালতে তোলা হয়েছিল। এসএফআইয়ের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক শঙ্কর মজুমদার জানান, আইনজীবীদের কর্মবিরতিও দু’জনের জামিনের আবেদনই করা যাচ্ছে না। শহরে ধর্মঘট ডাকার হুমকিও দিয়েছে বামপন্থীরা। আদালতের ল-ক্লার্ক, কর্মীরাও সমস্যায় পড়েছেন। শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মহম্মদ ইউসুফ আলি বলেন, ‘‘আমরাও তো বিচার পাচ্ছি না। প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরাও চাই সমস্যার দ্রুত সমাধান।’’