• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গভীর রাতে শেষ হল কৌশিকী অমাবস্যা তিথি, ভক্ত সমাবেশ প্রায় দু’লক্ষ

চারদিকে এঁটো শালপাতা আর প্লাস্টিক

Plastics
নানা-ছবি: পরিবেশ আদালতের নির্দেশে তারাপীঠে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। তবু চলল দেদার ব্যবহার। নিজস্ব চিত্র

Advertisement

মঙ্গলবার সকাল। তারাপীঠ শ্মশান চত্বর এলাকা। বামাখ্যাপার পঞ্চমুণ্ডি আশ্রমের হোমকুণ্ড থেকে আগুনের লেলিহান শিখা তখনও জ্বলছে। একটু দূরে বাউলের দল গেয়ে চলেছে, ‘তোমায় হৃদ-মাঝারে রাখব, ছেড়ে দেব না’। জয় তারা ধ্বণিতে শ্মশান যাত্রীরা সমস্বরে চীৎকার করে উঠছেন। কাছেই পঙক্তিভোজনে বসেছেন শতাধিক পুণ্যার্থী।

গভীর রাতে এ বারের মতো কৌশিকী অমাবস্যা তিথি ছেড়েছে। সোমবার রাতের অমাবস্যা তিথিতেই এ বারে সব থেকে বেশি লোক সমাগম হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসনের হিসাবে, সব মিলিয়ে দেড় থেকে দু’লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়েছিল। সোমবার রাতে যে বেশি লোকের সমাগম হয়েছিল, তারাপীঠ ঢোকার মুখে আটলা মোড় থেকে দ্বারকা সেতু পর্যন্ত ভিড় দেখে তা বোঝা গেল। জাতীয় সড়কের উপরে মনসুবা মোড় থেকে খরুণ পর্যন্ত, দশ বারোটি বাইরে থাকা আসা বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। দেখা গেল, জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে একের পর এক অটো, ট্রেকার যাত্রী বোঝাই করে রামপুরহাট স্টেশন অভিমুখে ছুটছে। এ বারের মতো কৌশিকী অমাবস্যার মিলন মেলা শেষ। এ বারে বাড়ি ফেরার পালা।

কিন্তু, এলাকার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ছন্দে ফিরতে বাদ সাধছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা। তারাপীঠের প্রায় সর্বত্র নোংরা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেল। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের তরফে ঘণ্টায় ঘণ্টায় জঞ্জাল পরিস্কারের যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, সেটা কি কথার কথা ছিল?

বামদেব ঘাটে আবর্জনা।নিজস্ব চিত্র

এ দিন সকাল এগারোটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত তারাপীঠের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল, কোথাও পড়ে প্লাস্টিকের গ্লাস, খিচুড়ি লেগে থাকা থার্মোকলের বাটি, এঁটো শালপাতা। তারপীঠ ঢোকার আগে যেখানে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি ক্যাম্প করেছিল, সেই এলাকা থেকে কিছু দূরে প্লাস্টিক, গ্লাস, এঁটো থালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। তারপীঠ ঢোকার মুখে দ্বারকা সেতুর কাছে থার্মোকলের বাটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দ্বারকা সেতুর শেষ প্রান্তে বামদেব ঘাটে নোংরা আবর্জনা পড়ে রয়েছে। তারই মধ্যে পুণ্যার্থীদের স্নান করতে দেখা গেল। তারাপীঠ শ্মশান যাওয়ার রাস্তায় জায়গায় জায়গায় জমা হয়ে আছে এঁটো শালপাতা। একই অবস্থা মুণ্ডমালিনী তলা পেরিয়ে নদীর ধার এলাকায়। তারাপীঠ শ্মশান লাগোয়া এলাকায় আবার পাইপ ফেটে লজের দূষিত জল নদীতে পড়ছে।

দ্বারকা সেতু থেকে মন্দির যাওয়ার রাস্তায় দেখা গেল, পুজো দিয়ে ফিরে আসা সমস্ত দর্শনার্থী প্লাস্টিকের প্যাকেটে প্যাড়া, সিঁদুর, আলতা পুজোর ফুল ভরে পথে হেঁটে চলেছেন। অথচ জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে তারাপীঠ এলাকায় প্লাস্টিক নিষিদ্ধ। মন্দির চত্বরে প্লাস্টিক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার নোটিস কিছু দিন আগেও বড় বড় হরফে লেখা থাকতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু সেই লেখা কবে, কে, কোথায় খুলে ফেলেছে কেউ জানে না। এক দর্শনার্থী তো বলেই দিলেন, ‘‘এখানে প্লাস্টিক নিষিদ্ধ এমন কথা তো জানতাম না। আর সেটা নিয়মই যদি হয়, তা হলে তার প্রচার কই? পুজোর ডালা যেখান থেকে কিনেছিলাম, সেখান থেকেই তো প্যাকেট করে দিল।’’ এক দোকানি জানালেন, মন্দির চত্বর থেকেই তো দর্শনার্থীদের পুজোর ফুল, প্রসাদ প্লাস্টিকে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘ওখানকার দোকানদাররা যদি প্লাস্টিক ব্যবহার করেন, তা হলে আমরা কেন করব না?’’

এ বার ফেরার পালা। নিজস্ব চিত্র

মন্দির চত্বরে দেখা হল তারা মাতা সেবাইত সমিতির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তারাময়বাবুর কথায়, ‘‘প্লাস্টিকের ব্যবহারে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে। আমরাও মন্দির এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। কিন্তু প্রশাসন থেকে আরও বেশি নজরদারি চালানো দরকার।’’ এ নিয়ে রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কর্মীরা সচেষ্ট আছেন। জজ্ঞাল সাফাই হয়ে যাবে। কোথাও নোংরা, আবর্জনা স্তুপীকৃত হয়ে থাকবে না।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন