খোঁজ করতে নেমে বাঁকুড়ার চাইল্ড লাইন তিন বছরের শিশু সুরভির পরিবারের হদিস পেল। যদিও তার বাবা-মায়ের দেখা পাওয়া যায়নি। শিশুটির পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে শুক্রবার চাইল্ড লাইনের কর্মীরা জানিয়েছেন, শিশুটির বাবা-মা যায়াবর। তাঁদের ধারণা, সে কারণেই অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালে ফেলে চলে যান তাঁরা।

এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে, বছর দুয়েক আগে অসুস্থতার জন্য কয়েক মাসের শিশু কন্যাকে জঙ্গলে ফেলে চলে যাওয়ার ঘটনা। সে বার ওন্দার আমলাতোড়ার জঙ্গলে পায়ে সংক্রমণে আক্রান্ত ওই শিশু কন্যাকে পাতা ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে চাইল্ড লাইন তার পরিবারকে দুর্গাপুর থেকে খুঁজে বার করে। ওই শিশু কন্যার মা মেনে নিয়েছিলেন, অসুস্থতার জন্যই মেয়েকে জঙ্গলে ফেলে চলে গিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। সুরভিকে তার বাবা-মা ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন কি না তার কোনও নিশ্চয়তা এখনও নেই।

টিবি মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত বছর তিনেকের সুরভিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় গত ১৫ জানুয়ারি বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করে দিয়ে যান এক মহিলা। তিনি নিজেকে সুরভির মা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তারপর থেকে সুরভির বাড়ির লোকজনের আর দেখা মেলেনি। তবে চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে সুরভি তার মাকে খুঁজে চলেছে। হাসপাতালের নার্সরাই তাকে দেখভাল করছেন। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুরভির পরিবারকে ফিরে পেতে পুলিশে অভিযোগ জানালেও লাভ হয়নি। সংবাদপত্রে ঘটনাটি উঠে আসতেই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে শিশুর পরিবারের খোঁজ শুরু করে চাইল্ড লাইন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে সুরভির বাড়ির ঠিকানা লেখা ছিল ছাতনা থানার কমলপুর। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় গিয়ে সুরভির বাবা সুভাষ বেদের মামিমা শীতলা বেদের খোঁজ পান বাঁকুড়া চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর সজল শীল। 

তিনি জানান, সুভাষের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী লালমতিয়ার পাঁচটি ছেলে মেয়ের মধ্যে সুরভি মেজো মেয়ে। সুভাষ ও লালমতিয়া যায়াবর। তাঁদের কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। আর সুভাষের প্রথম পক্ষের স্ত্রী রোহিনী নিজের সন্তানদের নিয়ে কমলপুরেই থাকেন। 

এ দিন ফোনে রোহিনী বলেন, “ছয় ছেলে মেয়েকে নিয়ে আমি এখানে থাকি। স্বামী বা তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী কোথায় থাকেন, জানি না। তাঁদের ছেলেমেয়ের কোনও খবরই আমার জানা নেই।” সুরভিকে হাসপাতালে ভর্তি করে কেন চলে গেলেন লালমতিয়া? রোহিনী বলেন, “শুনেছিলাম সুরভির খুব কঠিন অসুখ হয়েছে। হতে পারে সে কারণেই হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে তাঁরা চলে গিয়েছেন।”

সজলবাবু বলেন, “সুরভির আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে যা তথ্য পেয়েছি তা বিশদে শিশুকল্যাণ কমিটিকে জানাব। তাঁরা যেমন নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করব।” এ দিকে শুক্রবারই বাঁকুড়া শিশুকল্যাণ কমিটি পুরো বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়া মেডিক্যালের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। বাঁকুড়া শিশুকল্যাণ কমিটির সদস্য মহিনুর আলম বলেন, “সুরভিকে নিয়ে হাসপাতালের কাছে যা তথ্য রয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভাল থাকলে শিশুকল্যাণ কমিটির সামনে তাকে পেশ করতে বলেছি আমরা।” 

বাঁকুড়া মেডিক্যালের সুপার গৌতমনারায়ন সরকার বলেন, “বাইরে রয়েছি। শিশুকল্যাণ কমিটির চিঠি পেলে যা তথ্য চাওয়া হয়েছে তা দেওয়া হবে। তবে সুরভি এখনও চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসা শেষ হলেই শিশু কল্যাণ কমিটির কাছে পেশ করা হবে।”