• সমীর দত্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ধৃত অভিযুক্ত প্রেমিক

ব্লেড চালিয়ে প্রেমিকাকে খুন, দাবি

Blood

 পাহাড়ের চূড়ায় কঙ্কাল উদ্ধারের তদন্তের কিনারা করল পুলিশ। আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই নিহত কলেজ ছাত্রীর প্রেমিককে গ্রেফতার করে এই দাবি করল পুঞ্চা থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কঙ্কালটি এক কলেজ ছাত্রীর। গলায় ব্লেড চালিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে জেরায় দাবি করেছে ওই যুবক। দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল।

জেলা পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস মঙ্গলবার বলেন, ‘‘অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ মাহাতো খুনের কথা স্বীকার করেছে। ওই কলেজ ছাত্রীকে খুন করে সে অন্য রাজ্যে পালিয়েছিল। নিজের সম্পর্কে সে নিরুদ্দেশ হওয়ার গল্প ফেঁদেছিল।’’ সোমবার রাতে পুলিশ বিশ্বজিৎ মাহাতো নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাকে পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে, বিচারক তিন দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

নিহত ছাত্রী ভাগ্য মাহাতো স্থানীয় কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তাঁর বাড়ি পুঞ্চা থানার পাকবিড়রা গ্রামে। রবিবার গ্রাম থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে একটি পাহাড়ের চূড়ায় তাঁর পচাগলা দেহ মেলে। পরিবারের সদস্যেরা দেহের পোশাক, জুতো এবং পড়ে থাকা কাগজপত্র দেখে দেহ শনাক্ত করেন। নিহতের বাবা ভাস্কর মাহাতো মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ জানান। রবিবার রাতেই খুনের মামলা রুজু হয়।

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ নভেম্বর কলেজে যাচ্ছে বলে বেরিয়ে ওই ছাত্রী আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করে ১৬ নভেম্বর পরিবার থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে বোরো থানার ডাঙ্গরডি গ্রামের বিশ্বজিৎ মাহাতোর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ওই যুবক এই কলেজের প্রাক্তণী। সেই সূত্রে দু’জনের আলাপ। পুলিশ সোমবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের দাবি, বিশ্বজিৎ প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিল, ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে মোটরবাইকে পুঞ্চা আসার পথে একটি গাড়ি তার পথ আটকায়। কয়েকজন যুবক জোর করে তাকে গাড়িতে তোলে। তারপরে তার আর কিছু মনে নেই। মাসখানেক পরে ওডিশার এক রেল স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরে। মাঝের এই সময় কী ভাবে কেটেছে সে মনে করতে পারছে না। বোরো থানায় তার নামেও ১৬ নভেম্বর নিখোঁজের ডায়েরি করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের ধন্দ কাটেনি। আটক করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছিল, ভাগ্য ও বিশ্বজিতের বিয়ের ব্যাপারে দুই পরিবারের মধ্যে কথাবার্তাও এগিয়েছিল। ১৩ নভেম্বর বিশ্বজিতের পরিবার পুঞ্চার পাকবিড়রা গ্রামে ভাগ্যর বাড়িতে এসে বিয়ের কথা পাকা করে যান। তারপরেই দিনই ভাগ্য নিখোঁজ হয়ে যান। অথচ প্রেমিকা তথা ভাবী স্ত্রী নিখোঁজ জেনেও বিশ্বজিৎ পাকবিড়রা গ্রামে খোঁজ নিতে আসেনি। এখানেই খটকা লেগেছিল পুলিশের। ভাগ্যর নিখোঁজের পরেই বিশ্বজিৎ নিরুদ্দেশ হওয়ায় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। পুলিশের দাবি, গত দু’মাসের বিশ্বজিতের মোবাইলের কল রেকর্ড ঘেঁটে জানা গিয়েছে, ও়ডিশা নয়, সে চেন্নাইয়ে ছিল। সেখানে ঠিকাশ্রমিকের কাজ করছিল। দিন দশেক আগে সে বাড়ি ফেরে।

টানা জেরায় শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে বিশ্বজিৎ ভাগ্যকে খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্বজিৎ দাবি করেছে, তার সঙ্গে বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেলেও ভাগ্য অন্য একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে যাচ্ছিল। সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসবে কি না জানতে এবং তাঁর সঙ্গে শেষ বোঝাপড়া করার জন্যে ১৪ নভেম্বর ভাগ্যর কলেজ যাওয়ার পথে অপেক্ষা করছিল বিশ্বজিৎ। পুলিশ জানতে পেরেছে, সে দিন কিছুটা পথ মোটরবাইকে এবং বাকিটা হেঁটে দু’জন পাহাড়ের উপরে ওঠেন। সারা রাস্তা দু’জনের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। ভাগ্য অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করে যান। ঝগড়ার মধ্যেই বিশ্বজিৎ হাতের মুঠোয় লুকিয়ে রাখা ব্লেড ভাগ্যের গলায় চালিয়ে দেয়। এরপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় ছুরির কোপ মারে। সেখানেই মৃত্যু হয় ভাগ্যর। এরপরেই গা ঢাকা দেয় বিশ্বজিৎ।

এ দিন ভাগ্যর বাবা ভাস্কর মাহাতো বলেন, ‘‘আমার মেয়ের নির্মম পরিণতির জন্য বিশ্বজিতের চরমতম শাস্তি দাবি করছি।’’ তবে চেষ্টা করেও অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

প্রায় দু’মাস হয়ে গেলেও ভাগ্যর দেহের খোঁজ মেলেনি কেন?

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ওই পাহাড়ের চূড়ায় সাধারণত কেউ যাতায়াত করেন না। চড়াই থাকার জন্যে রাখাল ছেলেরাও গরু নিয়ে এত ওপরে ওঠে না। পুলিশের ধারণা, এর আগেও ভাগ্যকে নিয়ে বিশ্বজিৎ পাহাড়ের চূড়ায় এসেছিল। তাই সে দিন বিশ্বজিতের মতলব আঁচ করতে না পেরে, ভাগ্য সেখানে উঠে থাকতে পারে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন