• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দু’দলের সংঘর্ষে জখম চার, ধৃত ছয়

Confrontation between BJP and TMC, 6 arrested
সিউড়ির রস্তানপুরে রবিবার রাতের সংঘর্ষের পরে। নিজস্ব চিত্র

তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের অভিযোগ উঠল সিউড়ির রস্তানপুরে। রবিবার রাতে ওই গ্রামে একাধিক বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ। আহত হন চার জন বিজেপি কর্মী। দু’জন সিউড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় দু’পক্ষের মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস চারেক স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সুন্দরী বায়েন ও বিজেপি কর্মী মালতি বায়েনের পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক দল করা নিয়ে অশান্তি বেঁধে ছিল। তারপর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে কথা বন্ধ। রবিবার রাতেও দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে তাতে দু’দলের কর্মীরাই জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি স্থানীয়দের। 

রবিবার গ্রামে নবান্ন উৎসব ছিল। বিজেপির অভিযোগ, রাতে নবান্ন শেষ হওয়ার পরেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা মদ্যপ অবস্থায় বাঁশ, লাঠি, শাবল নিয়ে গ্রামের রাস্তায় তাণ্ডব শুরু করে। অভিযোগ, এলাকায় বিজেপি করা যাবে না এই দাবি তুলে তারা বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হয় ও ভাঙচুর করে। হয় ইটবৃষ্টিও। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় বিজেপি কর্মী কিশোই বায়েনের বাড়ি। ভাঙচুর করা হয় একটি মোটরবাইকও। বিজেপির অভিযোগ, তাদের দলের চার কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

স্থানীয় বিজেপি কর্মী মালতি বায়েন, অমল বায়েন বলেন, ‘‘রাতে নবান্ন শেষে হঠাৎই দুষ্কৃতীরা মদ্যপ অবস্থায় আমাদের উপর চড়াও হয়। বাড়ির দরজায় লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে। ওরা বলছিল এলাকায় বিজেপি করা যাবে না। যাওয়ার আগেও গ্রামের বাইরে বোমাবাজি করে ওরা।’’ একই কথা বলেছেন আরেক বিজেপি কর্মীর মা ভানু বায়েন। তাঁর কথায়, ‘‘দুষ্কৃতীরা বাড়ির দরজায় লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে। আমার ছেলের একটাই অপরাধ যে সে বিজেপি করে।’’ বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই ওরা এইভাবে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের কর্মীরা থানায় অভিযোগ করলেও তৃণমূল ও পুলিশ যৌথভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য।’’

তবে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের অবশ্য পাল্টা দাবি, বিজেপি কর্মীরাই তাঁদের কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হয়ে, ইট-পাটকেল ছুড়েছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সুন্দরী বায়েন বলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে ওঁদের দীর্ঘদিন কথা নেই। কাল নবান্ন শেষে মদ্যপ অবস্থায় ওরা আমাদের উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করছিল। আমি বলতে গেলে ওরা আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমার স্বামী বারন করতে গেলে ওরা প্রথমে ইট ছুড়তে থাকে। পরে আমার স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে আঘাত করে। এরপরেই গ্রামবাসীরা ছুটে আসে।’’ সিউড়ি ২ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। কয়েকজন মদ্যপ অবস্থায় অশান্তি করেছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন